নয়াদিল্লি, ২২ মে (আইএএনএস): সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, খনি, তেল-গ্যাস, ধাতু ও অটোমোবাইল সংশ্লিষ্ট খাতে উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং ডেটা সেন্টার ও বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) অবকাঠামোর মতো নতুন ক্ষেত্রের সুযোগ বৃদ্ধির জেরে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের মূলধনী পণ্য (ক্যাপিটাল গুডস) শিল্পে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে শুক্রবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
ক্রিসিল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি শিল্পের বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব ফেলবে না। কারণ অধিকাংশ সংস্থার অর্ডার তালিকা বৈচিত্র্যময় এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম। অধিকাংশ আয়ই দেশীয় বাজার থেকে আসে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক চাপের কারণে খরচ কিছুটা বাড়লেও শক্তিশালী প্রকল্প বাস্তবায়ন, দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহক সম্পর্ক এবং উন্নত পরিচালন দক্ষতার ফলে অপারেটিং মার্জিন চলতি অর্থবর্ষে ১২-১৩ শতাংশের মধ্যে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, বড় সংস্থাগুলির অর্ডার বুক গত দুই অর্থবর্ষে প্রায় ১.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫.২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে বুক-টু-বিল অনুপাত ২০২৪ অর্থবর্ষের ৩.১ গুণ থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবর্ষে ৩.৭ গুণ হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) বৃদ্ধির ফলে এই শিল্পে গতি এসেছে। বিদ্যুৎ খাতের অংশীদারিত্ব ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও রেল খাতেও ধারাবাহিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি হয়েছে।
ক্রিসিল রেটিংসের ডিরেক্টর আদিত্য ঝাভের বলেন, “বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তির সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্বি-অঙ্কের ক্যাপেক্স বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবর্ষে ক্যাপিটাল গুডস সংস্থাগুলির রাজস্ব ১২-১৪ শতাংশ বাড়তে পারে।”
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে নবায়নযোগ্য শক্তির নেতৃত্বে ৫৮-৬২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারী প্রকৌশল ও সরঞ্জামের চাহিদা বাড়াবে।
এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তি সংযুক্তিকরণ, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং গ্রিড আধুনিকীকরণের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন খাতে বিনিয়োগও শক্তিশালী থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেল খাতে সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের ফলে বিনিয়োগ আবার বাড়তে পারে। অন্যদিকে, দেশীয় উৎপাদনকে গুরুত্ব দেওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতেও ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
ইস্পাত, সিমেন্ট, তেল ও গ্যাসের মতো মূল শিল্পগুলিতে বেসরকারি বিনিয়োগও স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি ডেটা সেন্টার এবং ইভি অবকাঠামোর মতো নতুন ক্ষেত্রও দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
______



















