নয়াদিল্লি, ২২ মে (আইএএনএস): শুধু অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়াই নয়, দেশে থাকা প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে ‘এক এক করে’ চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার সংকল্প নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। শুক্রবার এমনই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম মহাপরিচালক কে. এফ. রুস্তমজি-র স্মৃতিতে আয়োজিত ‘কে.এফ. রুস্তমজি বক্তৃতা’-য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যার কৃত্রিম পরিবর্তনের কোনও প্রচেষ্টাই সরকার মেনে নেবে না।
তিনি জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে খুব শীঘ্রই ত্রিপুরা, অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হবে।
জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলের প্রচেষ্টাকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার দায়িত্ব বিএসএফ-এর। আজ আমি বলতে পারি, ত্রিপুরা, অসম ও পশ্চিমবঙ্গে এমন সরকার রয়েছে যারা অনুপ্রবেশ না হওয়ার নীতিকে সমর্থন করে।”
শাহর বক্তব্য, বিএসএফ-এর কাজ শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়া নয়, গ্রামের পাটোয়ারি, থানা, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে অনুপ্রবেশকারী, অনুপ্রবেশের পথ এবং গরু পাচারের রুট শনাক্ত করাও তাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “এই কার্যকলাপ চিহ্নিত করে বন্ধ করা বিএসএফ-এর দায়িত্ব।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তবর্তী তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে বৈঠক ডাকা হবে।
মাওবাদ দমনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যখন আমরা মাওবাদ নির্মূলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন অনেকেই আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু আমাদের জওয়ানরা তা সফলভাবে করেছে। একইভাবে অনুপ্রবেশও গোড়া থেকে নির্মূল করা সম্ভব।”
তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করে মূল থেকে সমাধান করতে হবে।
শাহ জানান, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কেন্দ্র সরকার সীমান্ত থেকে বিএসএফ-এর তল্লাশি ও গ্রেফতারের অধিকার ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করেছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে বিএসএফ-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানও হয়, যেখানে ৪৩ জন জওয়ানকে সম্মানিত করা হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, ১৯৬৫ থেকে ২০২৫ — এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিএসএফ সীমিত সম্পদ নিয়ে শুরু করে আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “দেশপ্রেম এবং কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতিকেও জয় করা যায় — বিএসএফ তারই উদাহরণ।”
_______



















