নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২২ মে :
উত্তর ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল-কে ঘিরে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা, রোগী দুর্ভোগ ও পরিষেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মাঝেই শুক্রবার আকস্মিক পরিদর্শনে যান ধর্মনগরের বিধায়ক জহর চক্রবর্তী। তাঁর এই সফর ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সকালে আচমকাই জেলা হাসপাতালে পৌঁছে বিধায়ক বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও রোগী পরিষেবা ব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং একাধিক অভিযোগ শোনেন। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, পরিষেবার ধীরগতি এবং সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী ও সাধারণ মানুষ।
পরিদর্শনের সময় বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর দীপক হালদার, মেডিকেল সুপার ভাস্কর দাস সহ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিক। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন বিধায়ক।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়েও তিনি কড়া ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগী পরিষেবাকে আরও মানবিক ও কার্যকর করার উপর বিশেষ জোর দেন তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দেন, স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
পরিদর্শন শেষে বিধায়ক জহর চক্রবর্তী জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তবে এখন সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা সমস্যা ও রোগী দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র কি সত্যিই বদলাবে, নাকি এই পরিদর্শনও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে? উত্তর খুঁজছে ধর্মনগরবাসী।



















