গুয়াহাটি, ২২ মে (আইএএনএস): অসম ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্যে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
শুক্রবার এক্স-এ করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে অসমের জ্বালানি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৪,২০২ কোটি টাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যে ৬,২৩৫ কোটি টাকার চারটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে।
তিনি লেখেন, “অসম ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্যে পরিণত হচ্ছে। ১৪,২০২ কোটি টাকার জ্বালানি পরিকল্পনা এবং ৬,২৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করছি, যাতে উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।”
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বণ্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া জলবিদ্যুৎ এবং তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিকেও আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে, যাতে দক্ষতা বাড়ে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই জ্বালানি পরিকল্পনা শিল্পের বিকাশ, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে, কারণ এর মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্য হওয়ার এই উদ্যোগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেও অসমের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
গত কয়েক বছরে দ্রুত নগরায়ন, শিল্পের প্রসার এবং গৃহস্থালিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে অসমে বিদ্যুতের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উপকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সঞ্চালন করিডর এবং গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্যও একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজ্য সরকার।



















