গ্যাংটক, ১৯ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের আহ্বানের পর সিকিম দেশটির প্রথম রাজ্য হিসেবে বিজোড়-জোড় যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা চালু করেছে। মঙ্গলবার রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার শুধুমাত্র সেই সমস্ত বেসরকারি ও সরকারি যানবাহন চলাচলের অনুমতি পেয়েছে যেগুলির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের শেষ অঙ্ক বিজোড়। বুধবার চলবে জোড় সংখ্যায় শেষ হওয়া নম্বরের গাড়ি। হিমালয় ঘেরা এই রাজ্যে রাজ্য সড়কগুলিতে নিয়ম কার্যকর করা হলেও ট্যাক্সি ও দু’চাকার যানবাহনকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, যিনি প্রেম সিং গোলে নামেও পরিচিত, জানিয়েছেন সাধারণ মানুষের অসুবিধা কমাতে শনিবার ও রবিবার বেসরকারি যানবাহনের উপর কোনও বিধিনিষেধ থাকবে না। রাজ্যে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং দায়িত্বশীল পরিবহণ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকেও সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে গণপরিবহণ ব্যবহার করতে এবং হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের সামনে উদাহরণ তৈরি করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাসিন্দা কেশব সাপকোটা বলেন, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতীকী উদ্যোগ হতে পারে, কিন্তু সিকিমের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহারে এর খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি রাজ্য হওয়ায় এখানকার ভৌগোলিক পরিস্থিতিও সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাপকোটার কথায়, শুধুমাত্র কয়েকটি শহরাঞ্চলে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা দুর্গম হওয়ায় বহু মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন।
অন্যদিকে, আর এক বাসিন্দা রেমন ছেত্রী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়ন ও জনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় নীতিগুলি বাস্তবায়নে সিকিম বরাবরই উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তামাংয়ের গণপরিবহণ ব্যবহার ও বিভিন্ন স্থানে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকেও একই পথে উৎসাহিত করছে। ছেত্রী বলেন, প্রতীকী স্তরে হলেও নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিকিম আবারও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নিচ্ছে। তবে তিনি স্কুলের সময়সূচি ও আন্তঃজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও দেন, বিশেষ করে নামচি, গেয়ালশিং, সোরেং এবং গ্যাংটকের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষদের জন্য। তাঁর পরামর্শ, গ্যাংটকের মতো প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম বা জেলা ভিত্তিক প্রয়োগের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।



















