কিনশাসা, ১৯ মে (আইএএনএস): গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত ১৩১ জনের সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৫১৩টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনাও সামনে এসেছে। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কাম্বা।
সংক্রমিত এলাকা পরিদর্শন শেষে রাজধানী কিনশাসায় এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে কাম্বা বলেন, যে মৃত্যুগুলির খবর পাওয়া গেছে, তার সবকটি ইবোলার কারণে হয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত চলছে। গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা করে দেশটির স্বাস্থ্য দফতর। ১৯৭৬ সালের পর এটি ডিআর কঙ্গোতে ১৭তম ইবোলা সংক্রমণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিবেশী নর্থ কিভু প্রদেশেও সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের সংক্রমণ ‘বুন্ডিবুগিও’ স্ট্রেনের ইবোলা ভাইরাসের কারণে ছড়িয়েছে, যা ‘জাইর’ স্ট্রেনের তুলনায় কম প্রাণঘাতী বলে মনে করা হয়। তবে ইবোলা মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রবিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক স্তরেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। ১৫ ও ১৬ মে ডিআর কঙ্গো থেকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যাওয়া দুই ব্যক্তির শরীরে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের দু’জনকেই কাম্পালার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হু।
সংক্রমণের আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি ও তানজানিয়া সীমান্ত নজরদারি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সোমবার ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার এই নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে মহাদেশীয় নিরাপত্তার জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ইবোলা পরিস্থিতির জেরে রবিবার রুয়ান্ডার রুবাভু জেলার সঙ্গে ডিআর কঙ্গোর সীমান্তও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। ইবোলা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। এতে জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, শরীরে তীব্র ব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে শরীরের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণও হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসের ধরনভেদে ইবোলায় মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।



















