নয়াদিল্লি, ১৯ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সাম্প্রতিক নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন সফরকে ভারতের বৃহত্তর ইউরোপ-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আওতায় রয়েছে নরওয়ে ও ইতালি-সহ একাধিক ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে পরিবর্তন এবং মার্কিন বিদেশ নীতির নতুন সমীকরণের প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-কৌশলগত হিসাব। ইউরোপ একদিকে যেমন চীনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তেমনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর প্রভাবের ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতও কোনও একক শক্তি-গোষ্ঠীর উপর নির্ভরতা কমিয়ে উন্নত প্রযুক্তি, উচ্চমানের বিনিয়োগ এবং উৎপাদন ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সেমিকন্ডাক্টর সহযোগিতা। নেদারল্যান্ডস বিশ্বের শীর্ষ লিথোগ্রাফি যন্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থার আবাসস্থল। উন্নত চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরের ফলাফল হিসেবে গুজরাটের ধোলেরায় একটি সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব প্রকল্পে অগ্রগতির কথাও উঠে এসেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, সবুজ হাইড্রোজেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সহযোগিতার কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের বন্দর, জল ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষতাকে ভারত কাজে লাগাতে চায়।
নেদারল্যান্ডস সফরের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী সুইডেনের গথেনবার্গে গিয়ে সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এবং উরসুলা ভন ডের লেয়েন-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর পর্যায়ে উন্নীত করার পাশাপাশি ‘জয়েন্ট ইনোভেশন পার্টনারশিপ ২.০’ এবং ‘ইন্ডিয়া-সুইডেন টেকনোলজি অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স করিডর’ চালুর ঘোষণা করা হয়। আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যও স্থির হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, সবুজ জ্বালানি, সাংস্কৃতিক কূটনীতি এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সংযোগ— এই সব ক্ষেত্রকে একসূত্রে বেঁধে ভারত ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে।



















