হায়দরাবাদ, ১৮ মে (আইএএনএস) : তেলেঙ্গানাকে নকশাল মুক্ত রাজ্যে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পুলিশ আধিকারিকদের সোমবার সম্মানিত করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছত্তীসগঢ়ের জগদলপুরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পুলিশ আধিকারিকদের সংবর্ধনা জানান।
বামপন্থী উগ্রবাদ দমনে এবং তেলেঙ্গানাকে নকশাল-মুক্ত রাজ্যে পরিণত করতে বিশেষ অবদান রাখা তেলেঙ্গানা পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক তাঁদের অসামান্য পরিষেবা ও অবদানের জন্য সম্মানিত হন।
সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন তেলেঙ্গানার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সি.ভি. আনন্দ, রাজ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা বি. শিবধর রেড্ডি, ডিজিপি অপারেশনস (অক্টোপাস ও গ্রেহাউন্ডস) ডঃ অনিল কুমার এবং মালকাজগিরি কমিশনার তথা প্রাক্তন এসআইবি আইজিপি সুমতি। তাঁর নেতৃত্বাধীন এসআইবি দলকেও অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ডিজিপির দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অমিত শাহ বামপন্থী উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আধিকারিকদের অসাধারণ প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ থেকে বামপন্থী উগ্রবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করে নকশাল-মুক্ত সমাজ গড়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা বৈঠকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে নকশাল নির্মূল করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল।
অমিত শাহ বলেন, আমরা যখন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব কি না। কিন্তু আমরা সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলাম। আজ দেবী দন্তেশ্বরীর আশীর্বাদে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, বস্তার অঞ্চল নকশালমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি ছত্তীসগঢ়ের নকশালমুক্ত হওয়াকে ভারতের দীর্ঘদিনের বামপন্থী উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০-এর দশক থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় তিন প্রজন্ম ধরে দেশ নকশালবাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নকশালপ্রভাবিত অঞ্চলগুলি দীর্ঘদিন ধরে রক্তপাত, উন্নয়নের স্থবিরতা এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার সাক্ষী থেকেছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, এলডব্লিউই-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন এবং তাঁদের নিষ্ঠা ও আত্মবলিদানের কারণেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
তিনি মন্তব্য করেন, বামপন্থী উগ্রবাদ কখনওই কোনও একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাট-সহ গোটা দেশেই এটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছিল।
এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একসময় যা অসম্ভব বলে মনে করা হয়েছিল, তা আজ নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টা, দৃঢ় সংকল্প এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



















