আগরতলা, ১৮ মে : সামাজিক ভাতা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সরকারি ঘর থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জম্পুইজলা ব্লকের প্রমোদনগর ভিলেজের বাসিন্দা দরিদ্র রিক্সাচালক হালিম মিয়া ও তাঁর পরিবার। প্রমোদনগর বাজার সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারটির দুর্দশার চিত্র সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের কর্তা হালিম মিয়া বিশ্রামগঞ্জ বাজারে রিক্সা চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালান। স্ত্রী পারুলী বেগম এবং চার ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তাঁর ছয় সদস্যের পরিবার। সন্তানদের মধ্যে আপন মিয়া, পারমিন বেগম, রিমা বেগম ও রিপন মিয়া রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স বর্তমানে ১৪ বছর। প্রতিদিন রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনওরকমে দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা হয় পরিবারের।
হালিম মিয়ার বসতঘরটি মাটির তৈরি এবং অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়েছিল। পরে অনেক কষ্টে আবার টিনের ব্যবস্থা করে কোনওরকমে ঘর মেরামত করেন তিনি। বর্তমানে ভাঙাচোরা সেই ঘরেই দিন কাটছে পুরো পরিবারের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জম্পুইজলা ব্লকের অন্যতম দরিদ্র পরিবার হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত হালিম মিয়ার কপালে জোটেনি বৃদ্ধ ভাতা কিংবা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৬০ বছর হলেও তিনি এখনও বৃদ্ধ ভাতার আওতায় আসতে পারেননি।
সোমবার সংবাদ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হালিম মিয়া। তিনি সংবাদ প্রতিনিধিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ব্লক অফিস বা ভিলেজ অফিসে গিয়ে আবেদন করার মতো সময়ও তাঁর হাতে থাকে না। কারণ, একদিন রিক্সা না চালালে পরিবারকে উপোস থাকতে হয়।
হালিম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পারুলী বেগম সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে সামাজিক ভাতা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, সরকার এবং প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে, প্রমোদনগর ভিলেজ ও বিশ্রামগঞ্জ এলাকার বহু মানুষ এই পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর মতে, সমাজের বিত্তবান এবং প্রশাসন একযোগে এগিয়ে এলে হালিম মিয়ার পরিবারের দুর্দশা অনেকটাই লাঘব হতে পারে।



















