কাঠালিয়া, ১৯ মে : কর্মসংস্থানের তাগিদে প্রত্যন্ত জনজাতি এলাকা ছেড়ে সমতলে এসে ইট ভাঙার কাজে যুক্ত হয়েছেন একাংশ উপজাতি যুবক। মঙ্গলবার ভোরে কাঠালিয়া এলাকায় কাজের ফাঁকে কয়েকজন শ্রমজীবী যুবকের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসে তাঁদের কঠিন জীবনসংগ্রামের ছবি।
শিলাছড়ি ব্লকের অন্তর্গত প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা নীলমণি চাকমা, রাজেশ ত্রিপুরা, রাজু মগ, রতন ত্রিপুরা ও হলং ত্রিপুরা জানান, জীবিকার তাগিদেই তাঁরা ঠিকাদারের মাধ্যমে এখানে কাজ করতে এসেছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরি পান। তবে সেই টাকার মধ্যেই ঘরভাড়া, খাবার ও অন্যান্য খরচ চালাতে হয়। ফলে বাড়িতে টাকা পাঠানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
তাঁদের বক্তব্য, ছোটবেলায় পড়াশোনার সুযোগ না পাওয়ায় বর্তমানে শ্রমের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে সংসার চালানোর জন্য। যুবকদের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা তাঁদের এলাকায় গিয়ে উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর খোঁজ নেওয়া হয় না।
তাঁরা জানান, যে রাস্তা নির্মাণের জন্য তাঁরা ইট ভাঙার কাজ করছেন, সেই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও চলাচল করবেন। অথচ শ্রমের যথাযথ মূল্য তাঁরা পাচ্ছেন না। বর্তমান বাজারদরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় অল্প আয়ে সংসার চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
যুবকদের দাবি, তাঁদের গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ, উন্নত রাস্তা, পানীয় জল কিংবা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যন্ত এলাকার জনজাতি পরিবারগুলি নানা বঞ্চনার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
কাজের ফাঁকে নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা তুলে ধরলেও প্রকাশ্যে সব কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের আশঙ্কা, সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশ পেলে সমালোচনা কিংবা সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
এই ঘটনায় আবারও সামনে উঠে এসেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শ্রমজীবী ও জনজাতি মানুষের জীবনযাত্রার কঠিন বাস্তবতা এবং উন্নয়নের অসম চিত্র।



















