ভোপাল, ১৯ মে (আইএএনএস): ত্বিশা শর্মা মৃত্যুকাণ্ডে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বেল্ট সংক্রান্ত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) ভোপালের রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার দিকেই ইঙ্গিত মিলেছে। মঙ্গলবার আইএএনএস-কে এ কথা জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার রজনীশ কাশ্যপ।
তিনি জানান, গলায় ফাঁস দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা বেল্টটি ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য এইমস ভোপালে পাঠিয়েছিল। কাশ্যপ বলেন, এইমস-এর রিপোর্টও এসে গিয়েছে এবং সেটি ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে জমা দেওয়া হবে। প্রাথমিক রিপোর্টকে এই রিপোর্ট সমর্থন করেছে। এতে সহায়ক প্রমাণ রয়েছে।
এর আগে ত্বিশার পরিবার তদন্তে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ তোলে। পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্তের সময় তদন্তকারী অফিসার চিকিৎসকদের সামনে ঝুলন্ত অবস্থায় ব্যবহৃত বলে দাবি করা বেল্টটি পেশ করেননি। পরিবারের অভিযোগ, এই ত্রুটির ফলে গুরুত্বপূর্ণ বস্তুগত প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার কাশ্যপ স্বীকার করেন যে বেল্টটি উদ্ধার করা হয়েছিল, তবে তা ঘটনার দু’দিন পরে পরীক্ষার জন্য এইমস ভোপালে পাঠানো হয়।
এদিকে, পলাতক স্বামী তথা আইনজীবী সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছে পুলিশ। কাশ্যপ বলেন, সমর্থের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়েছে।
৩১ বছর বয়সী প্রাক্তন মডেল ত্বিশা শর্মাকে গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আট দিন পরেও তাঁর দেহ এইমস ভোপালেই রাখা রয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রথম ময়নাতদন্তে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। তাই তারা শেষকৃত্য করতে অস্বীকার করেছে এবং এইমস নয়াদিল্লিতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও মধ্যপ্রদেশের বাইরের কোনও সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ত্বিশার পরিবার ভোপাল জেলা আদালতে আবেদন জানিয়ে দেহটি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য এইমস নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়েছে। পরিবারের ওই আবেদনের উপর বুধবার আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।



















