ভুবনেশ্বর, ১৯ মে (আইএএনএস): উর্বর জমি, প্রচুর জলসম্পদ, বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া এবং পরিশ্রমী কৃষকদের কারণে পূর্ব ভারত দেশের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত পূর্বাঞ্চলীয় কৃষি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সঠিক নীতি ও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে পূর্ব ভারত ভারতের কৃষি বিকাশের “গ্রোথ ইঞ্জিন”-এ পরিণত হতে পারে।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী এবং মোহন চরণ মাঝি। এই অনুষ্ঠানে ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ় ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক কৃষিচর্চা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
উদ্বোধনী ভাষণে চৌহান বলেন, এই সম্মেলন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং পূর্ব ভারতের কৃষি, কৃষকদের জীবিকা এবং আঞ্চলিক কৃষি কৌশলের নতুন দিশা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
তিনি কৃষকদের শুধু ‘অন্নদাতা’ নয়, ‘জীবনদাতা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং বলেন, কৃষকদের সেবা করা ঈশ্বরের সেবার সমান।
কৃষিক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন তিনি— ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং কৃষকদের আয় ও জীবনমান বৃদ্ধি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষের খরচ কমানো, লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করা, ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং কৃষিক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি উদ্যানপালন, মৎস্যচাষ, পশুপালন, মৌমাছি পালন এবং কৃষি-বনায়নকে যুক্ত করলে ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
টেকসই কৃষির উপর জোর দিয়ে চৌহান সতর্ক করেন, মাটির পরীক্ষা না করে নির্বিচারে সার ব্যবহারের ফলে যেমন খরচ বাড়ে, তেমনই মাটির উর্বরতাও নষ্ট হয়।
তিনি জানান, আগামী ১ জুন থেকে দেশজুড়ে ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ শুরু হবে। এই অভিযানে সুষম সার ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হবে।
নকল সার, নিম্নমানের বীজ এবং ভেজাল কীটনাশককে কৃষকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এদের বিরুদ্ধে বৃহৎ অভিযান চালানো হবে।
কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
তিনি বলেন, পূর্ব ভারতে উৎপাদিত ফল, সবজি এবং বিশেষ কৃষিপণ্যের দেশীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি বাজারেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।



















