নয়াদিল্লি, ১৯ মে (আইএএনএস): ক্রমশ অস্থির হয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সামরিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত শক্তিকে সমন্বিত করে ভারতের ‘স্মার্ট পাওয়ার’ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
মঙ্গলবার “সিকিউরিটি টু প্রসপারিটি: স্মার্ট পাওয়ার ফর সাসটেইনড ন্যাশনাল গ্রোথ” শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্য এবং প্রযুক্তিও কৌশলগত শক্তির অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর এবং তার সীমিত প্রাপ্যতা এখন কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। একইভাবে হরমুজ প্রণালী এখন সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।”
সেনাপ্রধানের মতে, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির মধ্যে যে প্রচলিত বিভাজন ছিল, তা এখন প্রায় বিলুপ্ত। জাতীয় স্বার্থের নানা জটিলতায় সমষ্টিগত অগ্রগতির ধারণা আড়ালে চলে যাচ্ছে।
ভারতের ‘স্মার্ট পাওয়ার’-এর কাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি এমন এক কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা, যার মাধ্যমে ঠিক সময়ে, সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক উদ্দেশ্যে জাতীয় শক্তির উপাদানগুলি ব্যবহার করা যায়।
তিনি বলেন, “ভারতের ক্ষেত্রে এর অর্থ হল কৌশলগত প্রজ্ঞার সঙ্গে জাতীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে শান্তি নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বিশ্ব পরিস্থিতিকে দেশের অনুকূলে গড়ে তোলা।”
জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন, প্রচলিত ডাইম (কূটনৈতিক, তথ্যগত, সামরিক, অর্থনৈতিক) কাঠামোর সঙ্গে এখন প্রযুক্তি এবং ‘হোল অব নেশন’ পদ্ধতিকে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “২১ শতকের শুরুতে মনে করা হয়েছিল বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সংযোগ দেশগুলিকে এতটাই নির্ভরশীল করে তুলবে যে সংঘাতের সম্ভাবনা কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই উপাদানগুলিই এখন চাপ সৃষ্টি এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।”
আধুনিক সংঘাত শুধু সেনাবাহিনীর উপর নয়, শিল্প উৎপাদন, গবেষণা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর উপরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাপ্রধানের বক্তব্য, “নিরাপত্তা আর এমন কোনও বিষয় নয় যার বোঝা সমৃদ্ধিকে বহন করতে হবে; বরং সমৃদ্ধির যাত্রা শুরু হওয়ার পূর্বশর্তই হল নিরাপত্তা।”
______



















