বেঙ্গালুরু, ১৯ মে (আইএএনএস): কর্ণাটকের মাদিকেরির বিখ্যাত দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে বন্দি হাতির সংঘর্ষে এক মহিলা পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় কঠোর নির্দেশিকা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন কর্ণাটকের মন্ত্রী এন. এস. বোসেরাজু।
এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রী গভীর শোকপ্রকাশ করে জানান, তিনি মাদিকেরির জেলা প্রশাসন, বন দফতর এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পর্যটক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা পালনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও নির্দেশ দেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন এবং তার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণীর আচরণ বা প্রতিক্রিয়া আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়। তাই বনাঞ্চল বা হাতি ক্যাম্পে যাওয়া পর্যটকদের বন দফতরের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রাণী দেখার সময় পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার কর্ণাটকের মাদিকেরি জেলার দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প-এ ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পর্যটকের নাম এস. জুনেশে (৩৩), তিনি তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। তাঁর স্বামী জোয়াল গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে কুশালনগর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে ওই দম্পতি দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে যান। প্রথমে তাঁরা প্রশিক্ষিত হাতিদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পরে অন্যান্য পর্যটকদের সঙ্গে হাতিদের স্নান করানোর সময় জলাশয়ে নেমেছিলেন।
সেই সময় ‘মার্থান্ডা’ এবং ‘কাঞ্জন’ নামে দুই বন্দি হাতি আচমকাই নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করে। মাহুতরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হাতি দু’টি সংঘর্ষ চালিয়ে যায়।
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ‘মার্থান্ডা’ নামে একটি হাতি জুনেশের ওপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর স্বামী গুরুতর আহত হন।



















