আগরতলা, ১৯ মে : বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে আত্মবলিদানকারী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করল আমরা বাঙালী। আজ সংগঠনের রাজ্য কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিলচরের ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠী জোরপূর্বক উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বাঙালি জনগোষ্ঠী তার তীব্র প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে চারজন শহীদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, আসামেও একসময় অসমীয়া ভাষাকে একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে বরাক উপত্যকার বাঙালিরা তীব্র আন্দোলনে শামিল হন। ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচরে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ১১ জন শহীদ হন। সেই আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা ভাষা আসামে দ্বিতীয় ভাষার স্বীকৃতি পায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান সময়ে বাংলা ভাষার অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে ধীরে ধীরে বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয় কমে যাচ্ছে এবং তার পরিবর্তে ইংরেজি ও হিন্দি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তার ঘটছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং মনীষীদের অবদানকে বাঁচিয়ে রাখতে সকল বাঙালিকে এগিয়ে আসতে হবে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।



















