ভোপাল, ২২ মে (আইএএনএস): ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিংকে জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য হাজির হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত ১২ মে গভীর রাতে ভোপালের এইমস হাসপাতালে ত্বিশাকে মৃত ঘোষণা করার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্বিশার মৃত্যুর পরিস্থিতি, ঘটনার পর তাঁর অবস্থান এবং মৃতার পরিবারের তোলা অভিযোগগুলি নিয়ে সমর্থ সিংকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তদন্তকারীরা তাঁর ফোনের যোগাযোগের তথ্য, ঘটনার আগে ও পরে তাঁর গতিবিধি এবং পরিবারের সদস্য ও এফআইআরে নাম থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ও খতিয়ে দেখবেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ ত্বিশার পরিবার তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে পণপ্রথাজনিত নির্যাতন ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছে।
ত্বিশার শাশুড়ি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিংও ভোপালের কাটারা হিলস থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের অন্যতম সহ-অভিযুক্ত।
এদিকে শুক্রবার এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালত ত্বিশা শর্মার দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, যা এইমস দিল্লির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল সম্পন্ন করবে।
ত্বিশার পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা এক আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবার অভিযোগ করেছিল, প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একাধিক অসঙ্গতি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে। সেই কারণেই তারা স্বাধীন মেডিক্যাল মতামতের দাবি জানায়।
শুনানির সময় আদালত রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়াও প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, তদন্ত নথি, ছবি, ভিডিওগ্রাফি এবং অন্যান্য ফরেনসিক সামগ্রী এইমস দিল্লির বিশেষজ্ঞ দলের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, পরিবারের তোলা অভিযোগ এবং মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে স্বাধীন মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই এই মামলায় সিবিআই তদন্তে সম্মতি দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তদন্তভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।



















