নয়াদিল্লি, ২২ মে (আইএএনএস): নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের কারণে ২২ লক্ষ পড়ুয়ার মানসিক যন্ত্রণার কথা স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শুক্রবার আশ্বাস দিলেন যে আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা পুনরায় পরীক্ষা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২২ লক্ষ পড়ুয়ার যন্ত্রণা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু সমস্ত যোগ্য মেডিক্যাল পরীক্ষার্থীর স্বার্থে এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আমাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের জন্য আমরা সমালোচনা ও জনরোষের মুখে পড়েছি। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র বা ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রী যেন বঞ্চিত না হয়, সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।
নিজের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের মূল কারণকে উপেক্ষা না করে তা সংশোধন করাই তাঁর দায়িত্ব।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রে দায়িত্ব নেওয়া আমাদের কর্তব্য। শিক্ষা মন্ত্রক ২১ জুনের নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা শতভাগ ত্রুটিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
এছাড়াও বোর্ড পরীক্ষায় সঠিক, বৈজ্ঞানিক ও অভিন্ন মূল্যায়নের জন্য সিবিএসই-র চালু করা অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতির সমালোচনাও খারিজ করে দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী।
তাঁর মতে, শহরের উন্নত স্কুলে পড়া সচ্ছল পরিবারের ছাত্রছাত্রী এবং দূরবর্তী গ্রামের মেধাবী পড়ুয়ার মূল্যায়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা এখন স্বীকার করার সময় এসেছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, যদি সমালোচনা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা উচিত। নতুন কোনও ব্যবস্থা চালু করতে গেলে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। যৌথ আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনাই সঠিক পথ দেখাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও গুরুতর সমস্যাকে এড়িয়ে যাবে না বা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে না।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সমাজের বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব এবং পরীক্ষায় অসাধু উপায়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমি চাই আপনারা শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর উপর আস্থা রাখুন। এই শিক্ষানীতি দেশের জন্য এক দার্শনিক নথির মতো।
এছাড়াও অতিরিক্ত ‘কোচিং সংস্কৃতি’ নিয়ে অভিভাবকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, সন্তানদের সহায়তা করা বা টিউশনের ব্যবস্থা করা ভালো বিষয়। কিন্তু একজন ছাত্রকে পণ্যে পরিণত করা এবং তার উপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়, যাতে সে নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শংসাপত্রের চেয়ে দক্ষতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।



















