নয়াদিল্লি, ৪ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যেই নিরাপদে গ্রিন সানভি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এটি সপ্তম ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ যা এই কৌশলগত সামুদ্রিক পথ সফলভাবে পার হয়েছে।
জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিক দিয়ে ইরানের জলসীমার নির্ধারিত করিডর ব্যবহার করে যাত্রা সম্পন্ন করে। জানা গেছে, ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ৪৪,০০০ টন এলপিজি রয়েছে, যা সংঘাতের আগে ভারতের প্রায় অর্ধ দিনের চাহিদার সমতুল্য।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার গ্রীণ আশা এবং জাগ বিক্রম আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট সাতটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং সবকটিই এলপিজি ট্যাঙ্কার। বর্তমানে প্রণালীর পূর্বে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে মোট ১৭টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত তিনটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, চারটি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার, একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার, একটি রাসায়নিক পণ্যবাহী জাহাজ, তিনটি কনটেইনার জাহাজ, দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং দুটি রক্ষণাবেক্ষণে থাকা জাহাজ।
ভারত সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রেখেছে। সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলি ছাড়া অন্যান্য দেশের অ-শত্রুভাবাপন্ন জাহাজগুলি ইরানি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নিশ্চিত করেছেন যে, চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজগুলিকে এই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যাত্রাপথে ‘গ্রিন সানভি’ জাহাজটি নিজের ভারতীয় পরিচয় এবং নাবিকদের তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করছিল, যা বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালী যা পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পথ দিয়ে নিরাপদে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘গ্রিন সানভি’-র সফল যাত্রা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে সমন্বিত কূটনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।



















