পাটনা, ২৫ জুলাই (আইএএনএস) : ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা বিহার বন্ধকে ঘিরে শনিবার পাটনায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শহরের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্ষোভ ও অবরোধের খবর মিলেছে।
শনিবার সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও বিক্ষোভকারী গান্ধী ময়দানের কাছে জড়ো হয়ে বন্ধের সমর্থনে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল কথিত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। (উল্লেখ্য, মূল প্রতিবেদনে পদত্যাগের দাবি উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে বলা হয়েছে যে তিনি ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।)
রামগুলাম চক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, কিছু বিক্ষোভকারী ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করলে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। সংঘর্ষের জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
বিক্ষোভকে আরও তীব্র করতে কয়েকজন আন্দোলনকারী মোবাইল টাওয়ারে উঠে পড়েন। এরপর প্রশাসন নিরাপত্তা আরও জোরদার করে। গান্ধী ময়দান, রামগুলাম চক, পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজনৈতিক মাত্রাও পায় এই আন্দোলন। বিহার বন্ধের সমর্থনে জাতীয় পতাকা হাতে গান্ধী ময়দানে উপস্থিত হন তেজ প্রতাপ যাদব।
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং রাষ্ট্রীয় যুব আন্দোলন-সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনের ডাকে এই বন্ধ পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা, পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের তদন্ত।
এদিকে লখিসরাই জেলাতেও ছাত্রদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, কিছু বিক্ষোভকারী ভাঙচুর চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল বর্ষা কুমারী (কনস্টেবল নং ৩৯৬) আহত হন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রথমে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। পরে কিছু ব্যক্তি ভাঙচুর ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে বলপ্রয়োগ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা নষ্টের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার থাকলেও হিংসা, ভাঙচুর বা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাটনা ও লখিসরাই ছাড়াও গয়া, সাহারসা, সাসারাম, আরা এবং ছাপড়াতেও বন্ধের প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন। গয়ার গুরুত্বপূর্ণ মোড়, রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনালে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। সাহারসায় কচহরি চক এলাকায় যান চলাচল অবরুদ্ধ করা হয়। সাসারাম ও আরাতেও বিক্ষোভ হয়। ছাপড়ায় পৌরসভা চকে ছাত্রদের অবস্থান বিক্ষোভের ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।



















