Posts of - August 10, 2023
পশ্চিম থানার ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জেলা পুলিশের সদর কার্যালয়ে ডেপুটেশন
আগরতলা,১০ আগস্ট:আগরতলা পশ্চিম থানার ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানালেন মধ্য ভুবনবন এলাকার বাসিন্দারা। এলাকার মহিলারা বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে এসে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। উল্লেখ্য গত কিছুদিন আগে ওই এলাকায় দুষ্কৃতিকারীরা হামলা সংঘটিত করে। এব্যাপারে অভিযুক্তদের নামধাম উল্লেখ করে থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অভিযুক্তরা এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা ফের যেকোনো সময় অঘটন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী । সে কারণেই নিরাপত্তার দাবিতে এলাকার মহিলারা পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে শামিল হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এদিন। জেলা পুলিশ সুপার এলাকার মহিলাদের আশ্বস্ত করেছেন এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তক্রমে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় শান্তি সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখার জন্য তিনি এলাকার সমস্ত অংশের জনগণের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু এক যুবকের
আগরতলা,১০আগস্ট : বিশালগড় বজ্রপুর এলাকায় একটি প্লাস্টিকের ফ্যাক্টরিতে বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হয়ে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত শ্রমিকের নাম শাকিল হোসেন। জানা যায় ওই শ্রমিক প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো। রাত আটটা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত তার ডিউটি ছিল। সেই সময় অনুযায়ী প্রতিদিনের মত বুধবার রাতেও সে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ যখন প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে ডাইস খুলতে যায় তখন ওই সে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় বলে জানা যায়। ঘটনা প্রত্যক্ষ করে অন্যান্য সহ কর্মীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। বিশালগড় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা করা হয়নি। জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। জানা যায় তার দুটি ছোট শিশু সন্তান রয়েছে। এছাড়া পরিবারের রয়েছে মা এবং স্ত্রী। পরিবারে শাকিল হোসেনই ছিল একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। মৃতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য করার জন্য স্থানীয় জনগণের তরফ থেকে দাবি উঠেছে। এদিকে বিশালগড় থানার পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ফের রাজ্যে যান দুর্ঘটনার বলি 2
আগরতলা,১০আগস্ট:রাজ্যের দুটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বড়জলা এবং বিশ্রাম গঞ্জের পাথালিয়া ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাতে দুই বাইক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায় উষা বাজার স্টেট ব্যাংক শাখার কর্মী আশীষ কুমার ঘোষ বৃহস্পতিবার কের চৌমুহনিস্থিত বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বড়জলা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে দ্রুত বেগে আসা অপর একটি বাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। তাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজনরা ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দমকল বাহিনী ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং সেখান থেকে দেহটি উদ্ধার করে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যায়। জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। অপরদিকে বুধবার রাতে বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকার পাথালিয়া ঘাটে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির সঙ্গে দ্রুতগামী বাইকের ধাক্কা লাগলে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে সিমন দেববর্মা নামে বাইক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং সেখান থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ দুটি ক্ষেত্রেই পৃথক মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য রাজ্যে দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। দুর্ঘটনা রোধে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। যানবাহন এবং বাইক অত্যন্ত দ্রুত বেগে চলাচল করছে । গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সে কারণেই দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারনা নাগরিকদের। এব্যাপারে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। প্রতিদিন পথ দুর্ঘটনায় বহু প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে এবং বহু মানুষ পঙ্গুত্বের জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসন এই বিষয়ে কঠোর হউক, দাবি রাজ্যবাসীর।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বড়সড় গরমিল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতেও বড়সড় গরমিল। সংসদে এই প্রকল্প নিয়ে পেশ হওয়া সিএজি রিপোর্টে বড়সড় গরমিলের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু গরমিল নয়, এটা বড়সড় কেলেঙ্কারি’। সিএজির রিপোর্ট অনুযায়ী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে। স্রেফ 9999999999 এই নম্বরেই নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে ৭ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮২০টি অ্যাকাউন্ট। 8888888888-এই নম্বরে নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার অ্যাকাউন্ট। প্রায় ৯৬ হাজার অ্যাকাউন্ট নথিভুক্ত 9000000000 নম্বরে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ অ্যাকাউন্ট নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে ভুয়ো নম্বরে। এই অ্যাকাউন্টগুলির আদৌ অস্তিত্ব আছে কিনা, সেটাই এখন প্রশ্ন। এই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে কেউ টাকা পেয়ে থাকলে সেই টাকা কোথায় গেল সে প্রশ্নও উঠছে। এছাড়াও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে। একাধিক রাজ্যে দেখা যাচ্ছে, চিকিৎসা চলাকালীন কোনও রোগীর মৃত্যু হওয়ার পরও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় তাঁর চিকিৎসার খরচ বাবদ অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। এই সংখ্যাটাও প্রায় ৮০ হাজার। একই ব্যক্তি একই সঙ্গে একাধিক হাসপাতালে ভরতি থাকার দাবি করে এই প্রকল্পের আওতায় টাকা তুলেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সিএজি রিপোর্ট বলছে, আয়ুষ্মান ভারতে নথিভুক্ত প্রায় ৪৩ হাজার পরিবার এমন রয়েছে যাতে সদস্য সংখ্যা ১৫ জন থেকে শুরু করে ২০১ জন পর্যন্ত। যা কিনা অসম্ভব। এক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রেশনে গড়বড় হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক গরমিলের অভিযোগের মুখে কেন্দ্র অবশ্য সবটাই অস্বীকার করছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি, কোথাও কোথাও রেজিস্ট্রেশনের গণ্ডগোল হতে পারে। তার মানে এই নয় যে এই প্রকল্পে কোনও দুর্নীতি হয়েছে বা কেলেঙ্কারি হয়েছে।

আগরতলা পুর নিগমের বাজেট পেশ হল বৃহস্পতিবার
আগরতলা,১০ আগস্ট : আজ সর্বসম্মতিক্রমে আগরতলা পুর নিগম এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হয়। বাজেট পাশ হওয়ার পর মেয়র দীপক মজুমদার সাংবাদিকদের জানান মূলত নাগরিক পরিষেবাকে প্রাধান্য দিয়ে ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে সামনে রেখে ৩৯৭ কোটি টাকার এই বাজেট পাশ হয়। তিনি জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথে এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে গোটা রাজ্যের সঙ্গে উন্নয়নের নতুন ফলক স্পর্শ করবে আগরতলা পুর নিগম। বাজেট পাশ করার সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত সহ কর্পোরেটরগন ও আধিকারিকরা।
ডেঙ্গুর রোধে সক্রিয় পুর নিগম
.আগরতলা,১০ আগস্ট : আজ সকাল থেকে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে আগরতলা পুর নিগমের নর্থ জোনালের ১৩নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত পরিবার ও সম্পূর্ণ এলাকায় মশা নিধনের জন্য ধোঁয়া ও ঔষধ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে এবং আগামী দিনেও এই ভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডেই করা হবে বলে জানানো হয়েছে পুর নিগমের তরফে। পাশাপাশি জোনাল চেয়ারম্যান আবেদন করেন পুর নিগম এলাকায় বসবাসকারী সকল নাগরিকরা যাতে নিজ নিজ বাড়িঘরের আবর্জনা জত্রতত্র রাস্তা এবং ড্রেনে না ফেলে মাসে ৬০টাকার বিনিময়ে সাফাই কর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রেখে এক ত্রিপুরা সুস্থ্য ত্রিপুরা গড়ে তুলতে।উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত নর্থ জোনাল চেয়ারম্যান প্রদীপ চন্দ,সেনিটারি ইন্সপেক্টর এবং ওয়ার্ড সেক্রেটারি এবং এলাকার নাগরিকগণ। এদিকে সিপাহীজলা জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ ধীরে ধীরে নিন্মমুখী হচ্ছে। গত ৩-৪ দিনে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা খুবই কম। আজ সোনামুড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন সিপাহীজলার জেলাশাসক ডক্টর বিশাল কুমার। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা ব্যাক্ত করেছেন জেলাশাসক। তার মতে তা সম্ভব হয়েছে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কারনে। অন্যদিকে সোনামুড়া মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর অরিজিৎ সিনহা জানিয়েছেন গত মাসের ১৩ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত সোনামুড়া মহকুমায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৭ জন। তার মধ্যে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯ জন। তাদের দেহে এন.এস ওয়ান টেস্টে ডেঙ্গুর জীবাণু ধারা পড়েছে। বর্তমানে ধনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জ্বর নিয়ে ভর্তি রয়েছে ২২ জন রোগী। মূলত গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া মহকুমার ধনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। জেলার বিশালগড় মহকুমায় বিচ্ছিন্ন ভাবে তার সামান্য প্রভাব লক্ষ করা গেলেও সংক্রমণের প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল সোনামুড়ার ধনপুরে।



































