কলকাতা, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ কাণ্ডের নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তার প্রতি বিজেপির অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন—এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “মা-বোনেরা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে জঙ্গলরাজের শিকার হয়েছেন। তাঁদের চোখের রাগ প্রথম দফার ভোটে উচ্চ শতাংশে প্রতিফলিত হয়েছে।”
উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ২০২৪ সালের অগস্টে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা স্বপ্না দেবনাথকে বিজেপি পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে। এই কেন্দ্রেই রয়েছে ওই চিকিৎসকের পৈতৃক বাড়ি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েছে এবং তৃণমূলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা তা করেছে। রাজ্যে প্রতিনিয়ত মেয়েরা নির্যাতিত হচ্ছে, নিখোঁজ হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস মহিলাদের নিয়ে ভাবে না, বিজেপিই তাঁদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “লোকসভা নির্বাচনে সন্দেশখালির এক প্রতিবাদী মহিলাকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এবার হাসপাতালের এক নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা হয়েছে—এটাই প্রমাণ করে বিজেপি মহিলাদের পাশে রয়েছে।”
এদিন তিনি আশ্বাস দেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুধু নিরাপত্তা নয়, মহিলাদের সামগ্রিক ক্ষমতায়নের দিকেও জোর দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের বছরে অন্তত এক লক্ষ টাকা আয় নিশ্চিত করা হবে এবং স্বল্প সুদে ঋণ পেতে সহায়তা করা হবে।
এছাড়া মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা (বার্ষিক ৩৬,০০০ টাকা) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালুর কথাও বলেন।
নির্বাচনী প্রচারের মাঝখানে ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার ঝালমুড়ি খাওয়া দেখে কেউ কেউ বিরক্ত হয়েছেন। কিন্তু বাংলার যুবকদের সৃজনশীলতা দেশজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে। বিজেপি সেই সৃজনশীলতাকেই শক্তিতে পরিণত করবে।”
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, আর তার মধ্যেই মহিলাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের সাক্ষী হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতি।



















