নয়াদিল্লি, ২৭ এপ্রিল (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। আমেরিকায় কুরিয়ার মারফত সাইকোট্রপিক ওষুধ পাচারের সঙ্গে যুক্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পর্দাফাঁস করা হয়েছে।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের ২৭ এপ্রিলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযানে জব্দ হয়েছে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ওষুধ— যার মধ্যে রয়েছে জোলপিডেম, ট্রামাডল এবং ডায়াজেপাম। অভিযুক্তরা ভুয়ো কেওয়াইসি নথি, নকল বিল এবং কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই ওষুধ বিদেশে পাঠাত এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করত।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের বক্তব্য, “এই চক্র ভেঙে দিয়ে মাদক সংগ্রহ, লুকিয়ে রাখা, ভুয়ো নথি তৈরি, কুরিয়ার রুট ব্যবহার, ডিজিটাল সমন্বয় এবং অর্থ লেনদেন— গোটা শৃঙ্খলই সামনে এসেছে।”
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মতি নগরের একটি কুরিয়ার গুদামে আমেরিকাগামী একটি সন্দেহজনক পার্সেল আটক করার পর এই মামলার সূত্রপাত। তল্লাশিতে দেখা যায়, সাধারণ পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে সাইকোট্রপিক পদার্থ।
দীর্ঘ তদন্তে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ব্যাঙ্ক লেনদেন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং কুরিয়ার রেকর্ড খতিয়ে দেখে পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন— অভিষেক ভার্গব, ইয়াসার খান, নীতিন, নীরজ রাঘব এবং অমিতেশ রায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল মাথা ইয়াসার খান, যিনি ওষুধ সংগ্রহ, বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যাঙ্ক ও ইউপিআই মারফত অর্থ লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে লখনউয়ে একই ধরনের এনডিপিএস মামলার আগের রেকর্ডও রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়ো বা পরিবর্তিত ইনভয়েস ব্যবহার করে ফার্মাসিউটিক্যাল ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে এই ওষুধ সংগ্রহ করা হত। পরে সেগুলি তুলো বা লেসের মতো সাধারণ জিনিসের আড়ালে লুকিয়ে কুরিয়ারে পাঠানো হত। ধরা পড়া এড়াতে ওষুধের স্ট্রিপের ব্যাচ নম্বর মার্কার দিয়ে মুছে দেওয়া হত।
অভিযানে আটক পার্সেল থেকে ৩,৫০০টিরও বেশি জোলপিডেম ট্যাবলেট এবং ২,৫০০টির বেশি ট্রামাডল উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারের সময় ডায়াজেপামসহ আরও বেশ কিছু নিষিদ্ধ পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কুরিয়ার চ্যানেল ব্যবহার করে সংগঠিত মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ক্রমাগত নজরদারি ও অভিযানেরই ফল এই সাফল্য।


















