ঢাকা, ১১ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে হামের প্রকোপ ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে দেশে হামে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪২।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ তিনটি মৃত্যুকেই সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে সন্দেহভাজন হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫৫০-এ পৌঁছেছে। তবে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১,১১০টি নতুন সন্দেহভাজন হামের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৩,১৩৯।
একই সময়ে ১৩২টি নতুন পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে দেশে মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০,০৫৯।
ডিজিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ৬৮,০৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৪,২৯৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে যে লক্ষ্যভুক্ত শিশুদের মধ্যে ১০০ শতাংশেরও বেশি টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার পরেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকা কার্যকারিতা এবং টিকাকরণের আওতার বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকা ঢাকা ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে জরুরি হাম টিকাকরণ কর্মসূচি শেষ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পরেও প্রতিদিন এক হাজারের বেশি শিশু হাম বা হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নাজির আহমেদ বলেন, “টিকাকরণের হার ৯০ শতাংশের বেশি হলে সাধারণত হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথা। যদি বাস্তবে টিকাকরণ ঘোষিত মাত্রায় হয়ে থাকে, তাহলে এতদিনে সংক্রমণ অনেক বেশি হারে কমে যাওয়া উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে টিকাকরণের হার ১০০ শতাংশ দেখানো হলেও বাস্তবে হাজার হাজার শিশু টিকার বাইরে থেকে যেতে পারে। লক্ষ্যভুক্ত শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা সব সময় সরকারি হিসাবের সঙ্গে মেলে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টিকাকরণের সংখ্যা নয়, শিশুদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাকরণ কর্মসূচির কার্যকারিতা এবং নজরদারি ব্যবস্থার উপর আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
______



















