কলকাতা, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে কোনও রকম গাফিলতি হলে কলকাতা পুলিশ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন।
রবিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় বৈঠকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্তরের পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে কমিশনের তরফে নেতৃত্ব দেন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।
সূত্রের খবর, কমিশন বিশেষভাবে প্রতিটি থানার ওসি (ওসি) ও আইসি (আইসি)-দের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ভোটের দিন বা তার আগে কোথাও ভোটারদের ভয় দেখানো, বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানো—এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা আইসিকেই সরাসরি দায় নিতে হবে।
এক নির্বাচন দফতরের আধিকারিক জানান, “এই ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এরই মধ্যে কমিশন শনিবার রাতে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে তিনটি থানার ওসি এবং একটি থানার অতিরিক্ত ওসিকে বদলি করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আলিপুর থানা-এ ওসি ও অতিরিক্ত ওসি—দু’জনকেই সরানো হয়েছে, যার আওতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-র সরকারি বাসভবন পড়ে।
এছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-সহ মোট পাঁচজন পুলিশ আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।



















