নয়াদিল্লি/আগ্রা, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে।
রবিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চামড়া ও জুতো শিল্প, আয়ুশ, ফার্মা, মেডিক্যাল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ক্রীড়া সামগ্রী খাতের শিল্পপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পীযূষ গোয়াল জানান, এটি একটি “সমৃদ্ধ আলোচনা” ছিল এবং এতে তাঁর “বন্ধু” টড ম্যাকক্লে-ও অংশ নেন। একই সঙ্গে তিনি ‘আগ্রা: জুতার বিশ্ব রাজধানী’ ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইন চালু করেন, যার লক্ষ্য আগ্রাকে বিশ্বমানের সোর্সিং হাব, কর্মসংস্থানের কেন্দ্র এবং রপ্তানি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
গোয়াল বলেন, ভারত-নিউজিল্যান্ড এফটিএ একটি “মাইলফলক” যা কৃষক, নারী উদ্যোক্তা, কারিগর, এমএসএমই, ব্যবসায়ী এবং দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর ও জনমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
অন্যদিকে টড ম্যাকক্লে ভারতকে নিউজিল্যান্ডের “কৌশলগত অগ্রাধিকার” হিসেবে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
জানা গেছে, সোমবার দুই দেশের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির ফলে নিউজিল্যান্ডে ভারতের ১০০ শতাংশ রপ্তানির উপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রায় ৪৫০টি পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে নিউজিল্যান্ড—যার মধ্যে রয়েছে বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, কার্পেট এবং অটোমোবাইল উপাদান।
একইসঙ্গে, নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে আসা ৯৫ শতাংশ পণ্যের শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে। তবে ভারত তার সংবেদনশীল কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত দ্রব্য—যেমন দুধ, ক্রিম, দই ও চিজ—এই চুক্তির বাইরে রেখেছে।
এই চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতের বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলেও জানানো হয়েছে।
এছাড়া, ছাত্র ও পেশাজীবীদের চলাচল সহজ করতে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনার সময় সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন এবং পড়াশোনা শেষে দীর্ঘমেয়াদি কাজের ভিসার সুযোগ পাবেন।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৫,০০০ দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবী—যাদের মধ্যে আয়ুশ চিকিৎসক, যোগ প্রশিক্ষক, শেফ, সঙ্গীত শিক্ষকসহ আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্য ও নির্মাণ খাতের কর্মীরা রয়েছেন—তিন বছর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
এর পাশাপাশি ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’ প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর ১,০০০ জন ভারতীয় যুবক-যুবতী ১২ মাসের জন্য নিউজিল্যান্ডে একাধিকবার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
______



















