নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): আম আদমি পার্টি (এএপি)-এর রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং রবিবার জানিয়েছেন, সম্প্রতি দলত্যাগ করা সাতজন সাংসদের সদস্যপদ সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বাতিল করা উচিত। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জমা দিয়েছে দল।
তিনি জানান, সংবিধানের ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় এই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ করার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত শুনানি ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণন-এর কাছে আবেদন করা হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যখন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চধা শুক্রবার এএপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে আরও ছয়জন সাংসদ—স্বাতি মালিওয়াল, হরভজন সিং, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তাল, রাজিন্দর গুপ্ত এবং বিক্রম সাহনি—দল ছাড়েন এবং শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
রাঘব চাড্ডা দাবি করেছেন, তাঁরা এএপি-এর রাজ্যসভা সাংসদদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে একীভূত হবেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জয় সিং বলেন, “সংবিধান বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা দল ভেঙে অন্য দলে যোগ দিতে চাইছেন, তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হওয়া উচিত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই পদক্ষেপ গণতন্ত্র ও ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। তাঁর বক্তব্য, “আপনি একটি দলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে পরে সেই দলের বিরুদ্ধেই কথা বলছেন—এটা জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি অসম্মান।”
সঞ্জয় সিংয়ের মতে, কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি মতভেদে দল ছাড়তে চান, তাহলে প্রথমে পদত্যাগ করে পরে অন্য দলে যোগ দেওয়া উচিত।
বর্তমানে বিষয়টি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের বিবেচনাধীন। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে, কারণ এটি দলত্যাগ-বিরোধী আইনের প্রয়োগ এবং সংসদীয় নীতির প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।



















