গুয়াহাটি, ২ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : ২০১৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৃষ্ঠপোষকতা এবং অনুপ্রেরণায় নিরন্তরভাবে দাখিলকৃত কেন্দ্ৰীয় বাজেটে সমগ্র দেশ জুড়ে নতুন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এবারের বাজেট অমৃতকালের প্রথম বাজেট। দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মূলধন বরাদ্দ, আয়কর কাঠামোয় পরিবর্তন-সহ এদিনের বাজেটে বেশ কিছু বড় আর্থিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বাজেটে মোট সাতটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যাকে অর্থমন্ত্রী ‘সপ্তর্ষি’ বলে উল্লেখ করেছেন। সাতটি বিষয় হল, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল পরিকাঠামো, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগ, সম্ভাবনার উন্মোচন, গ্রিন গ্রোথ বা স্থিতিশীল বৃদ্ধি, যুবশক্তি এবং আর্থিক ক্ষেত্র। আজ বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির বশিষ্ঠ এলাকায় বিজেপির অসম প্রদেশ সদর দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কথাগুলি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
গতকাল যে বাজেট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ পেশ করেছেন, তার বলে উত্তরপূর্ব ভারতে কী প্রভাব পড়বে এবং সমগ্র দেশ জুড়ে কীভাবে নতুন করে বিকাশের পরিবেশ সৃষ্ট হবে তার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। ড. শর্মা বলেন, সমাজের উচ্চ-নিম্ন, ধনি-দুখি, সর্বস্তরের জনসাধারণকে অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্ৰীয় অর্থমন্ত্ৰী নিৰ্মলা সীতারমণের ২০২৩-২৪ অর্থবৰ্ষের কেন্দ্ৰীয় বাজেট কৃষক-মহিলা-যুবক, তফশিলি জাতি-জনজাতি এবং অন্যান্য পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প ধার্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ভারতবর্ষে সমবিকাশের কথা মাথায় রেখে উন্নয়নের ক্ষেত্রে পশ্চাদপদ বেশ কয়েকটি জেলাকে আকাঙ্ক্ষিত জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অসমেরও বেশ কয়েকটি জেলাকে চিহ্নিত করেছেন নির্মলা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ভারতবৰ্ষকে অধিক শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে পরিবহণ সেক্টরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা, রেল বিভাগের জন্য ২.৪০ লক্ষ কোটি টাকার পাশাপাশি নতুন ৫০টি বিমানবন্দর, হেলিপেড নিৰ্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপে ভারতবৰ্ষের পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তুলবে। বাজেটে শিশুদের জন্য জাতীয় ডিজিটাল গ্রন্থাগার, পঞ্চায়েত ও ওয়াৰ্ডে ডিজিটাল গ্রন্থাগার নিৰ্মাণ ছাড়াও ই-কোৰ্টের জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা ধাৰ্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই পদক্ষেপে দেশের জনসাধারণকে বৰ্তমান সময়ের সঙ্গে পা মেলাতে অধিক ডিজিটালমুখী করে তুলবে।
আরও বলেন, সমগ্র ভারত জোরে ৫০০টি আকাঙ্ক্ষিত ব্লক বাজেটে ধার্য করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জন-ধন যোজনা, রন্ধন জ্যোতি যোজনা সহ প্রত্যেক উন্নয়নমূলক যোজনার একশো শতাংশ কার্যকর করা হবে। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, কৃষি, জলসম্পদ, অর্থ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোর মতো সরকারি পরিষেবাগুলিকে ব্লক স্তরে পৌঁছে দিতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্লক প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
হিমন্তবিশ্ব বলেন, কেন্দ্রীয় বাজেট উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির জন্য ৭৮,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক (ডোনার)-এর প্রকল্পগুলিকে অব্যাহত রাখার অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে অসম একাই ৩২ কোটি টাকা পাবে। বলেন, ২০২২ সালে মোট বরাদ্দ ছিল ২,৭৭৫ কোটি টাকা। এ বছর ডোনার-কে ৫,৮৯২ কোটিতে উন্নীত করা হয়েছে, যা এক বিশাল বরাদ্দ।
প্রধানমন্ত্রী পিভিটিজি উন্নয়ন মিশন বাস্তবায়িত করতে ১৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী তিন বছরে তফশিলি উপজাতিদের উন্নয়নে অর্থনৈতিক শোষণের শিকার, সামাজিক ন্যায়ের শিকার, নিজেদের পরিচয় হারানো তফশিলি উপজাতিদের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বলেন, বাজেটটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করবে। যেমন, আয়কর ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রেহাই, মৎস্য পালকদের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা, শহরাঞ্চল পরিকাঠামোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা, প্ৰধানমন্ত্ৰী আবাস যোজনার জন্য ৭৯ হাজার কোটি টাকা, বিদ্যুৎ রূপান্তরের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা আবণ্টন দেওয়ার পাশাপাশি মহিলাদের জন্য ‘মহিলা সম্মান সেভিংস সাৰ্টিফিকেট, দেশের যুব-প্রজন্মের কৌশল বিকাশের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা-৪.০’ চালু করা ছাড়াও ৩০টি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের স্কিল কেন্দ্ৰ নির্মাণের কথা ঘোষণা দেশের ভবিষ্যত প্ৰজন্মের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বাৰ্তা, বলেন ড. শৰ্মা।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলার সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মৎস্যজীবী, মাছ বিক্রেতা এবং ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের সাহায্যে ৬,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সহ প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বরাদ্দ ৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৯,০০০ কোটি করা হয়েছে। কৃষির ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ১৫৭টি নতুন নার্সিং কলেজ স্থপনের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য জেলার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভাইব্রেন্ট ইনস্টিটিউট অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপগুলি কেবল নতুন কাজের সুযোগই দেবে না, এই অঞ্চলে উদ্ভাবন এবং স্থায়িত্বকে উন্নীত করতেও সাহায্য করবে৷



















