নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : দেশের আর্থিক অগ্রগতিতে পরিকাঠামোর উন্নয়নের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু ঘোষণা হল এবারের বাজেটে| ৱুধবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, ২০২০ সালের মধ্যে ২ কোটি মানুষকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ঘর দেওয়া হবে| এবারের ঘোষিত বাজেটে এই প্রথম অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংকে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে| এর ফলে আবাসন শিল্প উপকৃত হবে| মধ্য এবং নিম্ন আয়স্তরের মানুষকে ঘর দেওয়াই এর উদ্দেশ্য| অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংকে আরও আকর্ষণীয় করতে বেশ কিছু ছাড়ের ঘোষণা করেছেন জেটলি| এতদিন পর্যন্ত ঋণের জন্য ৩০ থেকে ৬০ বর্গমিটার বিল্ট আপ এরিয়া মাপা হত| এবার কার্পেট এরিয়া ধরে ঋণ দেওয়া হবে| কোনও একটি প্রকল্প ঘোষণার ৩ বছরের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করতে হবে| তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর হতে পারে| মধ্য আয়ের মানুষদের ঋণ দিতে ১ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে| তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ অর্থ কোন শ্রেণীর মানুষকে দেওয়া হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়| ব্যক্তিগত ঋণ দিতে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের জন্য ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্ককে ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে|
পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য ৩৯ লক্ষ ৬১ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে| এই অর্থ দিয়ে রেল, এয়ারপোর্ট এবং রাস্তা তৈরি এবং সংস্কার করা হবে| জেটলি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে প্রতিদিন রাস্তা তৈরি বেড়েছে| ২০১১ থেকে ১৪ সালে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭৩ কিমি রাস্তা তৈরি হত, এখন তা বেড়ে ১৩৩ কিলোমিটার হয়েছে| ২০১৭-১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে| উপকূল বরাবর ২ হাজার কিলোমটার রাস্তা তৈরি করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন| জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ৫৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে| মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ১ লক্ষ ৪০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে| আগের তিন বছরের থেকে যা অনেকটাই বেশি|
২ টিয়ার শহরগুলোকে বাছাই করে পিপিপি মডেলে ছোট বিমানন্দর তৈরি করা হবে| এখনও পর্যন্ত বিমানবন্দর তৈরি করতে সরকার একচেটিয়া অধিকার ভোগ করে| এবার বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এই কাজে সামিল করা হবে| আরও বেশি মফস্বলকে মূল শহরের সঙ্গে জুড়তে রেল লাইন বসানোর উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে | রেলের যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে | বম্বারডায়ার ইনস এবং জেনারেল ইলেক্ট্রিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কারখানা শুরু করেছে রেল| খুব শিগগিরই মেট্রো রেল নীতি চালু করবে সরকার| তাতে চাকরির সম্ভাবনা বাড়বে | বেসরকারি সংস্থাগুলোও যাতে মেট্রো প্রকল্পে সামিল হতে পারে তার জন্য মেট্রো রেল আইন আনা হবে | ভারতে প্রতিদিন ২ কোটি ৩০ লক্ষ যাত্রী রেলে সওয়ার হন| অভিযোগ, দেশে রেল পরিষেবার মান ভাল নয় | এই অবস্থায় রেলে বেসরকারি অংশিদারিত্ব বাড়িয়ে পরিস্থিতি বদলাতে চাইছে সরকার |



















