নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভিয়েতনামের দা নাংয়ে অনুষ্ঠিত পিকলবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ৪১টি পদক জিতে চতুর্থ স্থানে অভিযান শেষ করল ভারত। ভারতীয় দল মোট সাতটি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ১৭টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে।
গত বছরের সপ্তম স্থান থেকে এবার চতুর্থ স্থানে উঠে এসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে ভারত। বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে ৪৮ জন অ্যাথলিট দলগত বিভাগে অংশ নেন। কিডস, জুনিয়র, ওপেন, সিনিয়র এবং মাস্টার্স টিম ইভেন্টে তাঁরা সরকারি ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিভাগে ১৩০-রও বেশি ভারতীয় খেলোয়াড় অংশ নেন।
বিশ্বকাপে ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে কিডস দলের রুপোর পদক জয়ে। বীর শাহের নেতৃত্বাধীন দলে ছিলেন বিরাংশ চোপড়া, আরিন বল্লানি, মাহিকা রাঠৌর, মানসি কার্তিক, আশ্রিতা এস, কবীর মেহতা এবং প্রার্থনা মোতিয়ানি। কিডস বিভাগে ভারতের অধিনায়ক বীর শাহকে সেরা অধিনায়ক হিসেবেও সম্মানিত করা হয়।
ইন্ডিয়ান পিকলবল অ্যাসোসিয়েশনের সিইও আদিত্য খান্না ভারতীয় দলের সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে ভারত অসাধারণ ফল করেছে। চতুর্থ স্থান অর্জন একটি বড় বার্তা এবং পরবর্তী বিশ্বকাপে আরও ভালো জায়গায় পৌঁছনোর লক্ষ্য থাকবে। একইসঙ্গে ভারতে পিকলবলের তৃণমূল স্তরকে আরও শক্তিশালী করে নতুন প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে আনার ওপর জোর দেন তিনি।
জুনিয়র বিভাগে ভারত চতুর্থ স্থানে শেষ করে। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ভিয়েতনামের কাছে পরাজিত হয় ভারতীয় দল। অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন দলে ছিলেন আদিত্য সিং, দেব শাহ, পূর্বাংশ প্যাটেল, বিভান প্যাটেল, নাওমি আমালসাদিওয়ালা, আশ্রিতা রাজু এবং দিয়া মাট্টিপতি।
ওপেন বিভাগে ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমেরিকার কাছে ২-৪ ব্যবধানে হেরে যায়। হর্ষ মেহতার নেতৃত্বাধীন দলে ছিলেন অর্জুন সিং, অনীশ ফ্রোলিয়ান, আমান প্যাটেল, নাওমি আমালসাদিওয়ালা, পার্ল আমালসাদিওয়ালা, মিহিকা যাদব এবং আলিয়া ইব্রাহিম।
মাস্টার্স দলও কোয়ার্টার ফাইনালে ভিয়েতনামের কাছে পরাজিত হয়। অন্যদিকে সিনিয়র দল রাউন্ড অব ১৬-তে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যায়।
ব্যক্তিগত বিভাগেও একাধিক সাফল্য পেয়েছে ভারত। ওপেন প্রো মেনস ডাবলসে ব্রোঞ্জ জেতেন হর্ষ মেহতা। অনূর্ধ্ব-১৮ বয়েজ সিঙ্গলসে সোনা জেতেন পূর্বাংশ প্যাটেল। ৬০+ মেনস ডাবলসে অশোক রোহিরার সঙ্গে সোনা জেতেন ভূষণ আকুট। পাশাপাশি ৬০+ মেনস সিঙ্গলস এবং ৬০+ মিক্সড ডাবলসেও সোনা জিতে মোট তিনটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি। ৪০+ উইমেনস সিঙ্গলসে সেরা হন ফায়রুজ জাইদি এবং একই বয়স বিভাগে পুরুষদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন বিবেক রেড্ডি।
ভারতের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান পিকলবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সূর্যবীর সিং ভুল্লার বলেন, ভারতীয় অ্যাথলিটরা আবেগ, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁদের পারফরম্যান্স বিশ্ব পিকলবল মানচিত্রে ভারতকে আরও দৃঢ় জায়গা করে দিয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
________


















