আহমেদাবাদ, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মাত্র ছয় মাসে পঞ্চম আন্তর্জাতিক ক্রীড়া টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে আহমেদাবাদ। শুক্রবার সাবরমতী রিভারফ্রন্টে ওয়ার্ল্ড আর্চারি প্যারা সিরিজ-২০২৬ শুরু হওয়ার পর এই তথ্য জানান গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি।
তিনি বলেন, আহমেদাবাদে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ধারাবাহিক আয়োজন রাজ্যের উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং ক্রমবর্ধমান ক্রীড়া-পরিবেশেরই প্রতিফলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংঘভি বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানুষের অসাধারণ সক্ষমতা ও দৃঢ় সংকল্পের উদযাপন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ ভার্চুয়ালি এই চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন করেন। প্রতিযোগিতা চলবে ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর।
সাংঘভি জানান, আদিবাসী এলাকার তরুণদের মধ্যে তিরন্দাজি একটি স্বাভাবিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এই অঞ্চলগুলির বহু ক্রীড়াবিদ ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের নেতৃত্বে গুজরাট একটি সুসংহত ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ক্রীড়াক্ষেত্রে ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন শুরু হওয়া ‘খেল মহাকুম্ভ’-এ এখন প্রতি বছর ৭৫ লক্ষেরও বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন।
গান্ধীনগরে একটি অত্যাধুনিক প্যারা স্পোর্টস ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্পোর্টস সায়েন্স-ভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো থাকবে।
গুজরাটের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠার কথা তুলে ধরে সাংঘভি বলেন, রাজ্য ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস এবং ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চায়।
ডাব্লিউএপিএস-২০২৬-এ ভারত, চিন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কাজাখস্তান, মেক্সিকো, স্লোভাকিয়া, আমেরিকা, উজবেকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, সাইপ্রাস, চেকিয়া, ইরাক এবং রাশিয়া-সহ ১৯টি দেশের ১০৮ জন তিরন্দাজ অংশ নিচ্ছেন।
প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ ওপেন, কম্পাউন্ড ওপেন, ডাব্লিউ১ এবং ভিস্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড বিভাগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব প্যারা আর্চারি চ্যাম্পিয়ন শীতল দেবীকে ‘প্যারা আর্চার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। ওয়ার্ল্ড আর্চারির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর জুয়ান কার্লোস হলগাদো তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
______



















