নয়াদিল্লি, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দেশজুড়ে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৬৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যে ই-ন্যাশনাল এগ্রিকালচার মার্কেট (ই-ন্যাম) পোর্টাল এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাইকারি পর্যায়ে ২২৩ মেট্রিক টন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুচরো বাজারে ৪৪৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।
ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমার্স ফেডারেশন (এনসিসিএফ), ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন (নাফেড), কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার এবং মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে এই বিক্রয় অভিযান চালানো হচ্ছে।
ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি ও দামের প্রবণতা বিবেচনা করে আরও প্রায় ১,০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সড়কপথে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভোগকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এর লক্ষ্য হল বাজারে পেঁয়াজের জোগান বাড়ানো এবং মরশুমি মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো।
একইসঙ্গে প্রায় ৩,৪০০ কৃষককে সরাসরি ২১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা সময়মতো তাঁদের পাওনা অর্থ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকার।
মজুত পেঁয়াজের একটি পরিকল্পিত অংশ বাজারে ছাড়ার কাজও শুরু করেছে কেন্দ্র। রেলপথে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ এবং সড়ক পরিবহণ—এই দুই মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে দেশের বড় ভোগকেন্দ্রগুলিতে পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা এবং মরশুমি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নাসিক থেকে দুটি ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালানো হয়েছে। প্রথম ট্রেনে ৪৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ছিল। গত ২৭ আগস্ট রাতে সেটি দিল্লিতে পৌঁছয়। এর মধ্যে ১৪০ মেট্রিক টন বারাণসী, লখনউ, চণ্ডীগড় এবং অমৃতসরে পাঠানো হয়েছে। বাকি পেঁয়াজ দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ট্রেনে ৮৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট চেন্নাই পৌঁছয়। তামিলনাড়ু সরকার কার্ডপিছু ১ কেজি পেঁয়াজ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী গণবণ্টন ব্যবস্থা বা পিডিএসের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ বিতরণের পরিকল্পনা করেছে।
দেশের ১৯টি শহরে খুচরো পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ আরও বাড়ানো হয়েছে। সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি ট্রাক পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, মজুত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার ফলে সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও কমেছে। বিশেষ করে বারাণসী, অমৃতসর, দিল্লি এবং সংলগ্ন বাজারগুলিতে এর প্রভাব দেখা গিয়েছে। পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু হওয়ার পরের দিন থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে দাম কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম স্থিতিশীল রাখতে তা সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।
—আইএএনএস























