কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): তীব্র ও বিষয়ভিত্তিক সমালোচনা হলেও তাঁর সরকার সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নেবে না বলে মঙ্গলবার আশ্বস্ত করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় সাংবাদিকদের সতর্ক থাকারও আবেদন জানান তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য নতুন পেনশন প্রকল্প ঘোষণা করতে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা রাজ্য সরকার এবং আমাকে সমালোচনা করতে পারেন। আমার বক্তব্যের সমালোচনা করতে পারেন। আমার দলেরও সমালোচনা করতে পারেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই সমালোচনা গ্রহণ করব। এর জন্য আমি কখনও প্রতিহিংসাপরায়ণ হব না।”
একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন অধিকারী। তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলিতে সংবাদমাধ্যমের সংবেদনশীল থাকা উচিত।”
দেশের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থকে সবার অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এমন কিছু করা উচিত নয় যা দেশকে দুর্বল করতে পারে বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে এমন মন্তব্য বা শব্দচয়নের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আবেদন জানান তিনি। অধিকারী বলেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভাবাবেগ যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকার ও সংবাদমাধ্যম—উভয়েরই দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সরকার যেমন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে যাতে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত না লাগে, সংবাদমাধ্যমেরও একইভাবে দায়িত্বশীল থাকা উচিত।”
দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সরকার কোনও সম্প্রদায়কে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেয়নি বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধি চালু করা হয়েছে।
এর আগে এদিন পশ্চিমবঙ্গে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধিকারী রাজ্যের ভোক্তা বিষয়ক দফতরকে পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে অবহেলা করার অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, এই দফতরের সঙ্গে সরাসরি জনস্বার্থের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সর্বস্তরে প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে ওঠা ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়েই প্রতারিত হচ্ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার ভোক্তা বিষয়ক দফতরকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর।
—আইএএনএস























