নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): প্রশ্নফাঁস বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও বিরোধীদের সংঘাতের আবহে শুক্রবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, সংসদে তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দিয়ে তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাত্রদের কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এই ইস্যুতে কোনও আলোচনা হবে না।
এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছিলেন, বিরোধীরা প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনার মুখ এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে, বিশেষ করে বিরোধীদের, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করে নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনার দিন, সময় ও নিয়ম চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিরোধীরাই প্রথমে বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি তুলেছিল এবং সে জন্য সরকারের কাছে মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণেরও আবেদন জানিয়েছিল।
সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “কিছুক্ষণ আগে কিরেন রিজিজু বললেন, তিনি চান আমরা আমাদের সাংসদদের আলোচনায় অংশ নিতে বলি। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি আপনার নাম উল্লেখ করেন, তাহলে জবাব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত। কিন্তু আমি উত্তর দিতে উঠতেই আমার মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদের তিনটি দাবির ভিত্তিতেই বিরোধীদের অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে। প্রথমত, দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রীকে সরাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাত্রদের উপর হামলা ও লাঠিচার্জের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এই তিনটি দাবি পূরণ না হলে কোনও আলোচনা হবে না।”
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমরা কোনও ধরনের আলোচনা বা সংলাপে অংশ নেব না।”
কংগ্রেস সাংসদ তারিক আনোয়ারও রাহুলের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে না দেওয়া অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক। তাঁর কথায়, “আজ সভাপতির আচরণ বিস্ময়কর এবং দুর্ভাগ্যজনক। সরকার কেন বিরোধীদের কথা বলতে দিতে চাইছে না, তা বুঝতে পারছি না।”
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব বলেন, সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে কোনও অচলাবস্থা নেই। তিনি বলেন, “আমরা চাই শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করুন এবং বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক, যাতে সমাধানের পথ বের হয়। কিন্তু সরকার অহংকারের কারণে তা করতে চাইছে না।” তিনি আরও বলেন, নৈতিক দায়িত্ব নিয়েই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।
কংগ্রেস সাংসদ কুমারী সেলজা বলেন, “নৈতিকতার বিষয়টি সরকার বুঝতে চাইছে না। ছাত্রদের সঙ্গে যে নির্মম আচরণ করা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আমাদের দাবি। আমাদের কর্মীদের সঙ্গেও একই আচরণ হয়েছে। আমরা চাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করা হোক এবং শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করুন।”
সূত্র: আইএএনএস



















