এভিয়ান, ১৬ জুন (আইএএনএস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করে, তবে তাকে “অকল্পনীয় পরিণতি” ভোগ করতে হবে। কাতারের ভূমিকাকেও তিনি এই চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এই চুক্তি একটি বড় অগ্রগতি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি সফল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এখন এটি দ্বিতীয় পর্যায়ে যাচ্ছে, যা আমার মতে আরও সহজ হবে। গত সপ্তাহে আমি তাদের ওপর হামলা করতে চাইনি, কিন্তু আমাদের কাছে অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। আমরা দু’বার হামলা করেছি এবং তৃতীয়বারের পরিকল্পনাও ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করতে হয়নি।
তিনি ইরানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা ইরানে কোনও অর্থ বিনিয়োগ করছি না। এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি, কিন্তু ইরানে অর্থ বিনিয়োগের কোনও বাধ্যবাধকতা আমাদের নেই। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের নাগালের বাইরে রাখা।
তিনি বলেন, আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের মালিক হবে না। তারা এটি তৈরি করবে না, কিনবেও না এবং কোনওভাবেই এর অধিকারী হবে না। যদি তারা তা করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প আরও জানান, চুক্তির খসড়ায় প্রথমে শুধু ‘পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার’ কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে জোর দিয়ে ‘পরমাণু অস্ত্র কেনা বা অর্জন না করার’ শর্তও যুক্ত করান।
তিনি বলেন, মার্কো (রুবিও) আমার সঙ্গে ছিলেন। প্রথম খসড়ায় শুধু লেখা ছিল যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। আমি বলেছিলাম, না, তারা এটি তৈরি করবে না, আবার কিনতেও পারবে না। এই বিষয়টি যুক্ত করতে আরও কয়েক দিন সময় লেগেছিল।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে, তবে এই গতি বজায় থাকলে অঞ্চলে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে দোহা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে ট্রাম্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কাতারের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনি দিনের পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষকেই দ্রুত সমঝোতার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ইউক্রেনেরও একই অবস্থা। আমি রবিবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছি। আটটি যুদ্ধ মীমাংসা করেছি, কিন্তু এটিই ছিল সবচেয়ে সহজ হবে বলে ভেবেছিলাম। দুই নেতার মধ্যে গভীর বিরোধ রয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে লেবাননে হামলার ঘটনা তাঁর পছন্দ হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো, কিন্তু ওই হামলা আমার ভালো লাগেনি। লেবাননের বিষয়ে বিবির (নেতানিয়াহু) আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে সিরিয়া ভবিষ্যতে হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা নিতে পারে।
























