আগরতলা/গুয়াহাটি, ১৬ জুন (আইএএনএস): ত্রিপুরা ও অসমের মধ্যে দ্রুত বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা চালু করতে উদ্যোগ জোরদার করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (এনএফআর)। রেল সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত পরিষেবা শুরুর আগে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে একাধিক ইলেকট্রিক মেমু (মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন চালানো হচ্ছে।
এনএফআরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, আগরতলা থেকে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর, দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরুম এবং দক্ষিণ অসমের করিমগঞ্জের মধ্যে বর্তমানে ছয় থেকে আট কোচের বৈদ্যুতিক মেমু ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করছে। এই ট্রায়াল চলাকালীন নবনির্মিত বিদ্যুতায়ন পরিকাঠামোর কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইনের প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সন্তোষজনক রিপোর্ট পাওয়ার পর নিয়মিত বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে, ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ এর আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল) রাজ্যের ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, ১৯৬৪ সালে প্রথম ট্রেন ধর্মনগরে পৌঁছেছিল। পরে ২০০৮ সালে আগরতলা রেলপথে যুক্ত হয় এবং ২০১৯ সালে রেল সংযোগ সম্প্রসারিত হয়ে সাবরুম পর্যন্ত পৌঁছায়।
রতন লাল নাথ বলেন, “২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব গ্রহণের পর ত্রিপুরায় ব্রডগেজ রূপান্তর প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়। এর আগে এখানে মিটারগেজ লাইন ছিল। আগরতলা-আখাউড়া আন্তর্জাতিক রেল সংযোগ প্রকল্পও ২০২৩ সালে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়ন এবং অগ্রগতির গতি বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বর্তমানে ত্রিপুরা-অসম সীমান্তের চুরাইবাড়ি থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটবর্তী সাবরুম পর্যন্ত ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। মন্ত্রীর দাবি, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কাজ মাত্র সাত বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কেন্দ্রের ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-এর আওতায় ত্রিপুরার আগরতলা, উদয়পুর, কুমারঘাট এবং ধর্মনগর স্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজও চলছে।
বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৯টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করছে। তবে এতদিন রাজ্যের সমস্ত যাত্রীবাহী ট্রেন ডিজেল ইঞ্জিনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
রেল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে আগরতলা স্টেশন থেকে অসমের কাছাড় জেলার অরুণাচল জংশন পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ টানা যাত্রীবাহী ট্রেনের সফল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। নিয়মিত পরিষেবা চালুর আগে আরও কয়েকটি ট্রায়াল রান অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেনের আগে দক্ষিণ অসমের বদরপুর স্টেশন থেকে ত্রিপুরার জিরানিয়া স্টেশন পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনচালিত প্রথম পণ্যবাহী ট্রেনও সফলভাবে চলাচল করেছে।
রেল আধিকারিকদের মতে, বিদ্যুতায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অসমের শিলচর এবং ত্রিপুরার আগরতলা পর্যন্ত ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-এর পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই, ফিরোজপুর এবং পাটনার মতো শহরের সঙ্গে বর্তমানে ত্রিপুরার সরাসরি রেল সংযোগ রয়েছে। রাজ্যকে দেশের বিদ্যুতায়িত রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে ২০২২ সালে ৪৬ কোটি টাকার রেল বিদ্যুতায়ন প্রকল্প শুরু হয়েছিল। এর ফলেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা চালুর পথ প্রশস্ত হয়েছে।
























