News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • উত্তর-পূর্বে তফসিলি জনজাতির আয়কর ছাড়ের বিরুদ্ধে মামলা শুনতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট
Image

উত্তর-পূর্বে তফসিলি জনজাতির আয়কর ছাড়ের বিরুদ্ধে মামলা শুনতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): উত্তর-পূর্ব ভারতের তফসিলি জনজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের জন্য আয়কর ছাড়ের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় (পিআইএল) হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি মূলত আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত নীতিগত প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। তাই আবেদনকারী চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সংসদীয় কমিটির সামনে তাঁর মতামত তুলে ধরতে পারেন।

শুনানির সময় বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, “এটি মূলত একটি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়। সংসদে এমন একাধিক কমিটি রয়েছে যেখানে নাগরিকরা আইন সংশোধন বা উন্নতির জন্য পরামর্শ দিতে পারেন। আমরা নিশ্চিত, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই বিষয়গুলি সম্পর্কে অবগত এবং তা বিবেচনা করবেন।”

এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়। তাঁর আবেদনে হয় সংশ্লিষ্ট করছাড়ের বিধান বাতিল করার, নয়তো অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলদের বাদ দেওয়ার জন্য ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি চালুর দাবি জানানো হয়েছিল।

আবেদনে আয়কর আইন, ২০২৫-এর ধারা ১১ এবং তফসিল-৩-এর ক্রমিক নম্বর ১৯-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। আবেদনকারীর দাবি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী তফসিলি জনজাতিদের কোনও আয়সীমা, সম্পত্তিভিত্তিক মানদণ্ড, ক্রিমি লেয়ার নীতি বা পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা ছাড়াই সম্পূর্ণ আয়কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

আবেদনে বলা হয়, এই সুবিধা মূলত আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ১০(২৬) ধারার অধীনে চালু হয়েছিল, যাতে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনজাতি সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়া যায়। তবে গত দুই দশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামো, শিক্ষা এবং বাণিজ্যিক উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে বলে দাবি করা হয়।

আবেদনকারীর যুক্তি, কোনও আয়সীমা বা ক্রিমি লেয়ার নীতি ছাড়াই এই করছাড় চালু রাখা এখন অযৌক্তিক এবং অতিরিক্ত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে, একই অর্থনৈতিক পরিবেশে কাজ করা অ-ছাড়প্রাপ্ত ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য এটি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে আবেদনকারী আদালতের কাছে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান, যাতে নির্দিষ্ট বার্ষিক আয়ের ঊর্ধ্বে থাকা তফসিলি জনজাতি ব্যক্তিরা এই করছাড়ের সুবিধা না পান।

এছাড়াও করছাড়ের জন্য উপযুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ ও সময়ে সময়ে তা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আবেদনও করা হয়েছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও মন্তব্য না করে আবেদনকারীকে উপযুক্ত আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপনের স্বাধীনতা দিয়েছে।

________

Releated Posts

ত্রিপুরা-অসমের মধ্যে শীঘ্রই চালু হতে পারে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা, তৎপর উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল

আগরতলা/গুয়াহাটি, ১৬ জুন (আইএএনএস): ত্রিপুরা ও অসমের মধ্যে দ্রুত বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা চালু করতে উদ্যোগ জোরদার করেছে উত্তর-পূর্ব…

ByByNews Desk Jun 16, 2026

২২ জুন থেকে শুরু অম্বুবাচী মেলা, ২৬ জুন খুলবে কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার

গুয়াহাটি, ১৬ জুন (আইএএনএস): পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ অম্বুবাচী মেলা উপলক্ষে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে কামাখ্যা মন্দির-এ।…

ByByNews Desk Jun 16, 2026

শিলংয়ে উত্তর-পূর্ব অবকাঠামো সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন নীতিন গড়করি

শিলং, ১৫ জুন: কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গাডকারি সোমবার মেঘালয়ের শিলং-এ উত্তর-পূর্ব ভারত অবকাঠামো সম্মেলন…

ByByNews Desk Jun 15, 2026

জৈব চাষে জোর, ‘ওরজা’ সার ব্র্যান্ড চালু করলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী

ইম্ফল, ১৫ জুন: মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং সোমবার রাজ্যে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে জৈব…

ByByNews Desk Jun 15, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top