নয়াদিল্লি, ১৫ জুন (আইএএনএস): ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার পর তাদের লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত চক্রগুলি। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দেশে অবস্থানকারী অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের খুঁজে বের করে তাদের বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। আইএসআই-সমর্থিত এজেন্টরা তাদের বোঝাচ্ছে যে, ভারতে থেকে যেতে হলে এবং প্রত্যর্পণ এড়াতে হলে তাদের এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের পর অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও প্রত্যর্পণের উদ্যোগ আরও গতি পেয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে এই অভিযান বেশি গুরুত্ব পেলেও ধীরে ধীরে তা দেশের অন্যান্য রাজ্যেও সম্প্রসারিত হবে।
আইবি-র এক আধিকারিকের দাবি, অবৈধ বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড, জাল নোট চক্র এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিয়োগের জন্য প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের বর্তমান অনিশ্চিত অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অর্থের লোভ দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব নাকি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা-কে দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে থেকেই এই কার্যকলাপ শুরু হলেও বর্তমানে তা আরও তীব্র হয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
আইবি-র মতে, এই নিয়োগ আদর্শগত নয়, বরং আর্থিক প্রলোভনভিত্তিক। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বলা হচ্ছে যে তাদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে, তাই এই নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়াই একমাত্র পথ।
গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা অনেকের কাছেই ভুয়ো পরিচয়পত্র রয়েছে। ফলে স্থানীয় থানার পক্ষে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরও তাদের খুঁজে বের করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
আইবি-র দাবি, দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিপুল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। কর্নাটক, তামিলনাড়ু, কেরল এবং মহারাষ্ট্রে তারা প্রায়শই পশ্চিমবঙ্গ বা অসমের বাসিন্দা পরিচয়ে কাজ করেন এবং স্থানীয় বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যান।
গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যাঁরা শ্রমিক বা কর্মচারী নিয়োগ করেন, তাঁদের যথাযথ পরিচয় যাচাই করতে হবে এবং সন্দেহজনক ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাকে অবহিত করতে হবে।
আইবি-র এক আধিকারিকের কথায়, “এই মুহূর্তে কোনওরকম আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। আইএসআই অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করে দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।”



















