গুয়াহাটি, ১৫ জুন (আইএএনএস): দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গুয়াহাটি এখন ধীরে ধীরে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর মতে, সংযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে গুয়াহাটিতে একাধিক ঐতিহাসিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রত্যাশিত। সেই প্রেক্ষিতে তিনি শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলমান এবং প্রস্তাবিত বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লিখেছেন, “উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার এখন ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে উঠে আসছে। গুয়াহাটি যখন আগামী দিনে একাধিক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে, তখন আমি আমাদের সুন্দর রাজধানী শহর ও তার আশপাশের বিভিন্ন প্রকল্প পর্যালোচনা করেছি।”
যদিও তিনি তাঁর পোস্টে নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্পের নাম উল্লেখ করেননি, তবে এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন কেন্দ্রের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির আওতায় অসম, বিশেষ করে গুয়াহাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।
গত কয়েক বছরে গুয়াহাটির নগর পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নতুন উড়ালপুল নির্মাণ, নদীতীর উন্নয়ন, গণপরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং প্রতিবেশী রাজ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
পাশাপাশি বিমান, রেল ও অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়েছে। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গুয়াহাটির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সংযোগ আরও মজবুত করবে।
মুখ্যমন্ত্রী বারবার উল্লেখ করেছেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অসম মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে আসিয়ান দেশগুলির সংযোগকারী সেতু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই গুয়াহাটিকে বাণিজ্য, লজিস্টিক্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহে একাধিক উচ্চপ্রোফাইল প্রকল্পের উদ্বোধন বা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে পারে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিকাশের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গুয়াহাটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কও নতুন গতি পাবে।
























