চেন্নাই, ৩০ মে (আইএএনএস): সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের কারণ খতিয়ে দেখতে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে)। দলীয় নেতৃত্ব কমিটির আবেদনে সাড়া দিয়ে রিপোর্ট জমার নির্ধারিত সময়সীমা ৫ জুন থেকে বাড়িয়ে ১০ জুন পর্যন্ত করেছে।
ডিএমকে সদর দফতরের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যজুড়ে দলীয় কর্মী, প্রার্থী এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের কাছ থেকে আরও মতামত সংগ্রহের জন্য কমিটি অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। সেই অনুরোধ মেনে দলীয় নেতৃত্ব রিপোর্ট জমার জন্য আরও পাঁচ দিনের সময় দিয়েছে।
দলের সভাপতি এম. কে. স্ট্যালিন নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ধাক্কার পরই ৩৮ সদস্যের এই পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছিলেন। কমিটির দায়িত্ব ছিল নির্বাচনী পরাজয়ের কারণগুলি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ করা।
দলীয় সূত্রের খবর, কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক সফর করেছেন। জেলা স্তরের নেতা, বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক সংগঠক, তৃণমূল কর্মী এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় সমস্যা, নির্বাচনী প্রচারের সীমাবদ্ধতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডিএমকে একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টালও চালু করেছে। সেখানে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ জমা দিতে পারছেন।
দলীয় কর্মকর্তাদের দাবি, পোর্টালটি ব্যাপক সাড়া পেয়েছে এবং ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচ লক্ষ প্রতিক্রিয়া জমা পড়েছে। এসব মতামতের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী নির্বাচন, কেন্দ্রভিত্তিক সমস্যা, জোট পরিচালনা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়।
কমিটি মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের পাশাপাশি এই অনলাইন প্রতিক্রিয়াগুলিও বিশ্লেষণ করবে। এরপর একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করে তা দলীয় নেতৃত্বের হাতে তুলে দেবে।
ডিএমকে নেতৃত্বের মতে, এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া দলের পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী পরাজয়ের পর কর্মী-সমর্থকদের উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং রাজ্যে রাজনৈতিক গতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এই রিপোর্টে সাংগঠনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক কৌশলের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















