News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট ‘ভুলে ভরা’, দাবি শেখ হাসিনার আইনজীবীর
Image

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট ‘ভুলে ভরা’, দাবি শেখ হাসিনার আইনজীবীর

লন্ডন, ২৯ মে (আইএএনএস) : বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টকে “অত্যন্ত ভুল ও বিভ্রান্তিকর” বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী স্টিভেন পাওলস।

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্কের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে পাওলস অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট মাসে বাংলাদেশে হওয়া আন্দোলন নিয়ে প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে বহু অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষত, আন্দোলনে ১,৪০০ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর যে দাবি করা হয়েছে, তা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মেলে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে জুলাই ও অগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলন সংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন’ শীর্ষক রিপোর্টের তথ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনার আইনজীবী।

চিঠিতে তিনি আরও দাবি করেন, মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে “মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য” ছড়িয়েছিল, যাতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে সহিংস উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে ন্যায্যতা দেওয়া যায়।

স্টিভেন পাওলস জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮৩৪, যা রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে উল্লেখিত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। তবে তিনি এটাও দাবি করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভূমিকার” কারণে ৮৩৪ সংখ্যাটিকেও পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য বলা যায় না।

চিঠিতে বলা হয়েছে, একটি রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট বাস্তবতা থেকে এতটা বিচ্যুত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং রাজনৈতিক হিংসাকে উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের ভুল তথ্য ব্যবহারের বিপজ্জনক নজির তৈরি হচ্ছে।

এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরকে (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশ্যে সংশোধনী ও রিপোর্ট প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাওলস আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব এতটাই বেশি ছিল যে, রিপোর্টটির “নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা” নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিরোধীরাই তদন্ত প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, রিপোর্টে তদন্তের সময়সীমা শুধুমাত্র ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হয়নি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর হামলা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলি উপেক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চিঠিতে রাষ্ট্রসংঘকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই ধরনের রিপোর্ট রাষ্ট্রসংঘকে মিথ্যা বর্ণনা প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করছে।

স্টিভেন পাওলস জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রসংঘের উচিত অবিলম্বে নিহতের সংখ্যা সংক্রান্ত “স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ভুল” সংশোধন করা, যাতে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকে।

Releated Posts

ইবোলা মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গোতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে ইতালি

রোম, ২৯ মে (আইএএনএস) : ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব রুখতে ইউরোপের সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানাল ইতালি।…

ByBySandeep Biswas May 29, 2026

আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ শেখ হাসিনার, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঢাকা, ২৯ মে (আইএএনএস) : বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের…

ByByTaniya Chakraborty May 29, 2026

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ভারত- কানাডার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত, কানাডা সফর শেষ করলেন পীযূষ গয়াল

টরন্টো/নয়াদিল্লি, ২৮ মে (আইএএনএস): ভারত ও কানাডার মধ্যে বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার হলেও, ২০৩০…

ByByNews Desk May 28, 2026

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা ভারত-চিনের

বেজিং, ২৮ মে (আইএএনএস): ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থার (ডব্লিউএমসিসি) ৩৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত…

ByByNews Desk May 28, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top