নয়াদিল্লি, ২৯ মে (আইএএনএস) : কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগকে ঘিরে বৃহস্পতিবার নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুতে কংগ্রেস নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি।
আইএএনএস-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ লাহার সিং সিরোয়া বলেন, “সিদ্ধারামাইয়া খারাপ রাজনীতি করছিলেন। তিনি কর্ণাটকে কংগ্রেসকে শেষ করে দিতে চান।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি মনে করেন, তিনি না থাকলে কর্ণাটকে কংগ্রেস কিছুই করতে পারবে না। এখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা কংগ্রেসের ওপর নির্ভর করছে। তবে এটা নিশ্চিত, খুব শীঘ্রই সেখানে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।”
সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং এর সময় নির্বাচন নিয়ে দুই দলের নেতারা একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেল বলেন, “কংগ্রেসের কোনও সদস্যই হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না। বিজেপির একমাত্র কাজ ঘৃণা ও মিথ্যা ছড়ানো। যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে।”
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কংগ্রেসে এমন একটা ঐতিহ্য রয়েছে যেখানে কোনও মুখ্যমন্ত্রীই পূর্ণ মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারেন না। মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। কে পদত্যাগ করলেন, সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে মানুষ উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্ণাটক কংগ্রেসে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগ রাজ্যের রাজনীতিতে বড় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেসের অন্যতম জনপ্রিয় গণনেতা হিসেবে পরিচিত সিদ্ধারামাইয়া বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর লোক ভবনে রাজ্যপালের সচিবের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলের শীর্ষ নেতারা। এর মধ্য দিয়ে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার্যকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দলীয় অন্দরের জল্পনারও অবসান ঘটে।
পরে বেঙ্গালুরুতে ডি.কে. শিবকুমার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বরকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে সিদ্ধারামাইয়া জানান, কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলেছি এবং এবারও তাদের নির্দেশ অনুসারেই পদত্যাগ করেছি।”
৭৮ বছর বয়সী সিদ্ধারামাইয়া এখন কর্ণাটকের সেই বিরল রাজনৈতিক নেতাদের তালিকায় যুক্ত হলেন, যারা একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন এস. নিজালিঙ্গাপ্পা, ভীরেন্দ্র পাটিল, ডি. দেবরাজ উরস, রামকৃষ্ণ হেগড়ে, এইচ.ডি. কুমারস্বামী এবং বি.এস. ইয়েদিয়ুরাপ্পা।



















