চেন্নাই, ৮ মে (আইএএনএস) : অভিনেতা-রাজনীতিক ও তামিলগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয় শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি জানান। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থন পাওয়ার পর তিনি রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আবেদন জমা দেন।
চেন্নাইয়ের রাজ ভবনে তিনি রাজ্যপাল আর এন রবি-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জোটসঙ্গী দল ও নির্দল সমর্থকদের সমর্থনপত্র পেশ করেন। এপ্রিল ২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ঝুলন্ত ফলাফলের পর রাজ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আসে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্যপাল শুক্রবার রাত বা শনিবার সকালে বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শনিবার সকাল ১১টায় চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১০৮টি আসন জেতে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তখনও অর্জিত হয়নি। এরপর কংগ্রেস প্রথম দল হিসেবে বিজয়কে সমর্থন জানায়। তাদের নবনির্বাচিত পাঁচজন বিধায়ক টিভিকে-কে সমর্থন দেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আরও কয়েকটি দল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)—আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করে।
এই চার দলের প্রত্যেকের দুইজন করে বিধায়ক থাকায় বিজয় শিবিরের মোট শক্তি দাঁড়ায় ১২০ জন বিধায়ক, যা সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করে। রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিজয় চেন্নাইয়ে সিপিআই রাজ্য দফতরেও যান এবং বাম দলগুলোর সমর্থনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জানান। সমর্থনকারী দলগুলোর নেতারা জানান, রাজ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে দুইটি আসনে জয়ী হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বিজয়কে একটি আসন ছাড়তে হবে। এই নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক অভিষেকের অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে এগোচ্ছেন বিজয়।



















