সেরাইকেলা-খরসাওয়ান (ঝাড়খণ্ড), ৬ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডের সেরাইকেলা-খরসাওয়ান জেলার দলমা জঙ্গল এলাকায় বড়সড় মাওবাদী নাশকতার ছক ভেস্তে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। যৌথ অভিযানে তিনজন ওয়ান্টেড মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সামগ্রী। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, সারান্ডা জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানের চাপে পড়ে সিপিআই (মাওবাদী) দলমা এলাকায় পুনরায় সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল এবং একটি বড় হামলার পরিকল্পনাও করেছিল।
সেরাইকেলা-খরসাওয়ানের পুলিশ সুপার মনোজ স্বর্গিয়ারি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, গত ৪ আগস্ট গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে কন্দ্রা থানার অন্তর্গত উদয়পুর গ্রামে কয়েকজন সক্রিয় মাওবাদী আত্মগোপন করে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ, সিআরপিএফের ২০৩ কোবরা ব্যাটালিয়ন, ১৩৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং এসএসবির ২৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের যৌথ দল অভিযান চালায়।
অভিযানে সাব-জোনাল কমিটির সদস্য রবি সিং সরদার ওরফে সাগর সিংকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে একটি লোডেড একেএম-৪৭ রাইফেল, গুলি এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার হয়েছে।
রবি সিং সরদারের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মদন মাহাতো, যার মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল, এবং সাব-জোনাল কমান্ডার মীনা পাহাড়িয়া ওরফে নেপু পাহাড়িয়া, যার বিরুদ্ধে ২ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মীনা পাহাড়িয়া রবি সিং সরদারের স্ত্রী।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া বলে দাবি করা একটি ইনসাস রাইফেল, বিপুল পরিমাণ একেএম-৪৭-এর তাজা গুলি, একটি ৯ এমএম পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি, কোডেক্স তার, একটি মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম।
পুলিশের দাবি, ধৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে তারা অতীতে দলমা অঞ্চলে সক্রিয় ছিল এবং সারান্ডায় নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়ার পর সংগঠনটি দলমা এলাকায় নতুন করে ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। এছাড়া কুকরু এলাকায় পুলিশকর্মী হত্যাকাণ্ড এবং অস্ত্র লুটের ঘটনাসহ একাধিক মাওবাদী হামলায় জড়িত থাকার কথাও তারা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), অস্ত্র আইন, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ), ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট (সিএলএ) আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
























