নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট(আইএএনএস): সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল নিয়ে বিরোধীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা জোরদার করল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে বিলটি পুনরায় সংসদে আনার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সহযোগিতা চান।
সূত্রের খবর, চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই নিয়ে তৃতীয়বার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার উদ্যোগ নেন রিজিজু। সরকারের যুক্তি, ডিলিমিটেশন বিল দ্রুত পাস হলে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার পথও ত্বরান্বিত হবে।
উল্লেখ্য, সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ গত এপ্রিলে বাজেট অধিবেশনে লোকসভায় পাস হতে ব্যর্থ হয়েছিল।
সরকারি সূত্রের দাবি, রিজিজু রাহুল গান্ধীকে জানান যে, মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হলে দেশের মহিলাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে বিরোধীদের সমর্থন প্রয়োজন।
তবে ফোনালাপে রাহুল গান্ধী কোনও চূড়ান্ত আশ্বাস দেননি। সূত্রের দাবি, তিনি বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের সহযোগী দল এবং ইন্ডি জোটের শরিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য আরও সময় চান। আলোচনার পরই দলের চূড়ান্ত অবস্থান সরকারকে জানানো হবে বলে তিনি রিজিজুকে জানান।
এর আগে বুধবার কংগ্রেসের সাংসদ কে.সি. ভেনুগোপালও স্পষ্ট করে বলেন, ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। তিনি ডিলিমিটেশন নিয়ে কথা বলেছেন এবং আমরা পরে জবাব দেব, এমন নানা জল্পনা চলছে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু হয়নি।
ভেনুগোপালের বক্তব্য, গত অধিবেশনে যে অবস্থান কংগ্রেস নিয়েছিল, এখনও দল সেই অবস্থানেই অটল রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি অভিযোগ করেছিলেন, সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬-এর আড়ালে দেশের রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণেই বিরোধীরা লোকসভায় বিলটির তীব্র বিরোধিতা করে এবং তা পাস হতে দেয়নি।
তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছিলেন যে, বর্তমান লোকসভা ও বিধানসভার আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে যদি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়, তাহলে বিরোধীরা সেই উদ্যোগকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ নিয়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র মধ্যেও মতপার্থক্য সামনে আসে। কারণ, প্রস্তাবিত এই বিলে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।



















