ছত্রপতি সম্ভাজীনগর, ৬ আগস্ট(আইএএনএস): আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ‘কিয়া বোলতি পাবলিক?’ নামে দেশব্যাপী জনসংযোগ অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে মহারাষ্ট্র-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মতামত, সমস্যা ও প্রত্যাশা সরাসরি জানার চেষ্টা করবে দল।
দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে হওয়া আন্দোলনের পর ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে অনুষ্ঠিত সিজেপির দু’দিনের জাতীয় কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন।
দিপকে বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলি সরাসরি প্রশাসনের নজরে আনা। বিশেষ করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি, স্কুল-কলেজের লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ইস্যু করা হবে।
শিক্ষা খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে মানসম্মত শিক্ষা মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, অনেক বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করাতেই এক থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে, এর সঙ্গে অতিরিক্ত ডোনেশনের চাপও রয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারের পক্ষে সন্তানদের ভালো শিক্ষা দেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুধু প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা নয়, উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন কোচিং প্রতিষ্ঠানের বিপুল খরচ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিপকে। তাঁর মতে, বহু অভিভাবক সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছেন, যার ফলে অসংখ্য পরিবার ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছে। এই আর্থিক চাপ কমানো এবং শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফিরিয়ে আনাই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
দিপকের কথায়, ‘কিয়া বোলতি পাবলিক?’ অভিযানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে সিজেপি। এই জনমতকে ভিত্তি করে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং সেগুলিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দলের আদর্শ প্রসঙ্গে দিপকে জানান, সিজেপি ড. বি.আর. আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী এবং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সাংবিধানিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তাঁর দাবি, দলের আন্দোলনের লক্ষ্য কেবল কারও পদত্যাগ আদায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে সরকারের প্রতি যে ভয় কাজ করে, তা সম্পূর্ণভাবে দূর করা।
নিট পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক-যুবতী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, বেকারত্ব বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা।
বিচারব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের আস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিপকে। একই সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনতে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা স্পষ্ট করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা জানান, দল আপাতত নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেবে না। বরং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। সাম্প্রতিক আন্দোলনে যারা সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের একত্রিত করেই আগামী দিনে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
























