নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ৭-৮ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ভারতের মোট দেশীয় সঞ্চয়ের হার বর্তমানের প্রায় ৩৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৮-৪০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে জানালেন ১৫তম অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান এন কে সিং।
নয়াদিল্লিতে ‘ফিন্যান্সিং ইন্ডিয়াস জার্নি টুওয়ার্ডস বিকশিত ভারত’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এন কে সিং রাজ্যভিত্তিক ঋণের স্থায়িত্ব নিয়ে মূল্যায়নের উপর জোর দেন। একই সঙ্গে অফ-বাজেট ঋণ, সরকারি গ্যারান্টি, বকেয়া দায় এবং সরকারি মালিকানাধীন সংস্থার মাধ্যমে নেওয়া ঋণের হিসাব-সহ আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে তথ্যকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর মধ্যেই বড় সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং মেশিন লার্নিংকে বিদ্যমান কর-তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করলে কর মেনে চলার ক্ষেত্রে ঘাটতি চিহ্নিত করা, কার্যকর করের আওতা বাড়ানো এবং রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
এন কে সিং সরকারি অর্থের উপর নির্ভরতা থেকে বেসরকারি পুঁজির দিকে আরও বেশি করে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি সম্পদকে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পূর্বানুমানযোগ্য নিয়ম, কার্যকর চুক্তি, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আরও শক্তিশালী বিনিয়োগ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপাদনের উপাদানগুলির বাজার সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি মূলধন, শ্রম ও জমিকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তুলনামূলকভাবে বেশি মূলধন ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষানবিশ ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগের মাধ্যমে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপর জোর দেন। পাশাপাশি জমির ব্যবহার আরও কার্যকর করা, অনুমোদন প্রক্রিয়া সরল করা এবং ডিজিটাল জমির নথি শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. ভি অনন্ত নাগেশ্বরন বলেন, সম্মেলনটি কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির জন্য শুধু সম্পদ সংগ্রহ ও বণ্টনের আলোচনা থেকে বেরিয়ে আগামী দুই দশকে ভারতের উন্নয়নে অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, রাজ্যগুলি যে খোলামেলাভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছে এবং আলোচনার যে মান ছিল, তাতে প্রতি বছর এই ধরনের সম্মেলন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। নাগেশ্বরন বলেন, ভারতের সঞ্চয়ের ভিত্তি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তা আরও বাড়াতে হবে। তবে ‘বিকশিত ভারত’-এর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ জোগাড় করতে বেসরকারি পুঁজির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো অপরিহার্য।
রাজ্যগুলির জন্য তিনটি অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। এর মধ্যে রয়েছে জমি, বিদ্যুৎ ও লজিস্টিকসের সুযোগ এবং কার্যকর সিঙ্গল-উইন্ডো অনুমোদনের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা; শক্তিশালী প্রকল্প প্রস্তুতির ব্যবস্থা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রকল্প রিপোর্টের মাধ্যমে দেশীয় এবং বহুপাক্ষিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং সম্ভাবনাময় কিন্তু পরিষেবাবঞ্চিত জেলাগুলিতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো; পাশাপাশি আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাজ্যগুলির নিজস্ব মূলধনী ব্যয় শক্তিশালী করা।
—আইএএনএস



















