কান্নুর, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভুয়ো নথি ব্যবহার করে প্রায় এক বছর ধরে অত্যন্ত নিরাপত্তাবেষ্টিত ইন্ডিয়ান নেভাল অ্যাকাডেমি (আইএনএ), এঝিমালার লন্ড্রি বিভাগে কাজ করার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। ঘটনায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গোপন সূত্রে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-এর কাছে তথ্য আসার পর অ্যাকাডেমি থেকেই ৩২ বছর বয়সি অভিযুক্ত সোরেনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কীভাবে একজন বিদেশি নাগরিক প্রায় এক বছর ধরে নৌ অ্যাকাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও নজরে এলেন না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার জন্য সোরেন একটি ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করেছিলেন, যেখানে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নামে জারি করা একটি ভুয়ো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পিসিসি)-ও তিনি ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সোরেন বাংলাদেশের নাগরিক এবং জাল নথি সংগ্রহের পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর কীভাবে তিনি এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে চাকরি পেলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ যে ঠিকাদার বা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করছে। কর্মী নিয়োগের আগে তাঁর পরিচয় ও অতীতের যথাযথ যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ভুয়ো ভারতীয় নথি ব্যবহার করে কান্নুর জেলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশি অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। গত কয়েক দিনে ওডেনপরম্বুর একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চার বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা কান্নুর শহরের একটি স্পা-তে কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ।
ওই মহিলাদের কাছ থেকে বাংলাদেশি পরিচয়পত্রের পাশাপাশি সন্দেহজনক ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অসম থেকে ভুয়ো নথি সংগ্রহ করার পর কাজের সন্ধানে কেরলে এসেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতারের পর কান্নুরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে কোনও সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাংলাদেশি নাগরিকদের কেরলে নিয়ে আসা, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি এবং তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার পিছনে কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তদন্তে সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
একই সঙ্গে নৌ অ্যাকাডেমির মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
—আইএএনএস



















