কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন।
শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, মিলন প্রধানের গ্রেফতারি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা এবং এটি গণতন্ত্রের উপর আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। তাঁর দাবি, কখনও ভোট চুরি, কখনও সরকার দখল এবং কখনও রাজনৈতিক দল দখলের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, কংগ্রেস ভয় পাবে না বা মাথা নত করবে না। নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে না গিয়ে দল লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের জবাব দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর অভিযোগের ভিত্তিতেই মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে তিনটি খুনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং নির্বাচনের সময় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব সম্ভবত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির প্রকৃত তথ্য রাহুল গান্ধীকে জানায়নি।
এদিকে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর শুক্রবার তৃণমূলের দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের নাম দেওয়া হয় ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ করা হয় ‘খাম’।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান।
(আইএএনএস)



















