আগরতলা, ১৮ সেপ্টেম্বর: বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ভারতে অবস্থানের অভিযোগে আগরতলা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে তিন বাংলাদেশি মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে থাকা এক ভারতীয় নাগরিককেও সন্দেহভাজন ‘টাউট’ হিসেবে আটক করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ওসি শ্যামল দেবনাথ এই তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক ঘোরাফেরা করছেন বলে গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। খবরের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক পুরুষ ও তিন মহিলাকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিন মহিলা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আটক ভারতীয় নাগরিকের নাম সিরাজুল ইসলাম। তিনি যাত্রাপুর থানার অন্তর্গত কৈত্যফলা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তি তিন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিন মহিলার বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলায়। তাঁদের অভিযোগ, সোনামুড়া সীমান্ত দিয়ে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করেন। তবে ভারতে প্রবেশ বা অবস্থানের বৈধ কোনও নথিপত্র তাঁদের কাছে ছিল না। তাঁদের কাছ থেকে কোনও ভারতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টও উদ্ধার হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে তিন মহিলা পুলিশকে জানান, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তাঁরা ভারতে এসেছিলেন। তবে গুয়াহাটি পর্যন্ত যাওয়ার পর তাঁদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং পরবর্তী গন্তব্য কোথায় ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। চারজনকেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হচ্ছে। তিন মহিলার সঙ্গে থাকা সিরাজুল ইসলামকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তিন বাংলাদেশি মহিলার ভারতে প্রবেশের ঘটনায় কোনও মানবপাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। এ প্রসঙ্গে ওসি শ্যামল দেবনাথ জানান, এই মুহূর্তে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মহিলাদের ভারতে প্রবেশ এবং তাঁদের গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



















