নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার ৭৬ বছরে পা দিলেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কঠোর শৃঙ্খলা, লক্ষ্যনিষ্ঠা এবং সরকারি নীতিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষমতার কথা প্রায়ই আলোচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মেয়াদে দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ ও সাফল্য সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। তবে তাঁর ব্যক্তিত্বের এমন কিছু দিকও রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নজরের বাইরে থেকে গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা বা কাজ করার সুযোগ পাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
‘মোদি স্টোরি’ ওয়েবসাইটে এমনই কয়েকজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর কিছু ব্যক্তিগত আচরণ ও সিদ্ধান্ত তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে।
মধ্যপ্রদেশের সোনাল মেহতা ২০১৩ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ঘটনা স্মরণ করেছেন। তিনি মোদিকে এক গ্লাস জল দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মোদি যতটা প্রয়োজন ততটাই জল গ্লাসে ঢেলে নিয়েছিলেন, পুরো জল একসঙ্গে নেননি। জল অপচয় না করার এই ছোট্ট ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
সম্প্রতি নয়াদিল্লির ৭, লোককল্যাণ মার্গে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে এক আলাপচারিতাতেও প্রধানমন্ত্রী দাঁত মাজার সময় এবং কুলকুচি করার মাঝখানে কল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন বলে ওই ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেকটি ঘটনায় বিশিষ্ট গায়ক ও সুরকার শঙ্কর মহাদেবন ডিজিটাল পেমেন্টের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। একটি খামারবাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি এক বিক্রেতার কাছ থেকে লেবু কিনে কিউআর কোডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করেছিলেন। সাধারণ মনে হলেও এই ঘটনা দেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাইও গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ২০০৯ সালে ভারতের অন্যতম প্রধান চলচ্চিত্র, যোগাযোগ ও সৃজনশীল কলার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য গুজরাটে জমি খুঁজতে গিয়ে ঘাই জানতে পারেন, মোদি মুম্বইয়ে রয়েছেন। কিন্তু তাঁর সচিবের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর মোদি ঘাইকে সেদিন রাতে থেকে পরদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে প্রাতরাশে যোগ দিতে বলেন।
সাক্ষাতের সময় ঘাই শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতের সংস্কৃতিকে আরও বেশি করে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। শিশুদের বিকাশে শিল্প ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বের কথাও তিনি বলেন। মোদি তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করে কী প্রয়োজন জানতে চাইলে ঘাই শিক্ষকদের সহজ যাতায়াতের জন্য বিমানবন্দরের কাছে জমি চান। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদি তাঁর সচিবদের হাইওয়ের পাশে উপযুক্ত জমি খুঁজে দেখতে নির্দেশ দেন এবং সচিবরা ব্যস্ত থাকলে তাঁকে সরাসরি ফোন করার কথাও বলেন বলে ঘাই জানিয়েছেন।
২০০৭ সালে উত্তরাখণ্ডের পৌড়িতে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার একটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ ফিরে আসার অপেক্ষায় না থেকে তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদি প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য চালিয়ে যান এবং ভিড়ের আরও কাছে গিয়ে মানুষের উদ্দেশে কথা বলেন বলে ওই বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব আর. কে. মাথুরও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রথম স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতের একটি ঘটনা স্মরণ করেছেন। লালকেল্লার প্রাচীরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়েছিল। মাথুরের বক্তব্য অনুযায়ী, মোদি মঞ্চের সামনে থাকা বুলেটপ্রুফ কাচ সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তৎকালীন গোয়েন্দা ব্যুরোর প্রধান প্রফুল্লচন্দ্র হালদার-সহ নিরাপত্তা আধিকারিকরা আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত রাত ২টার সময় ওই কাচ সরিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রবাসী ভারতীয় সুরিন্দর জৈনও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়কার একটি ঘটনা স্মরণ করেছেন। তাঁর দাবি, ২০০১ সালে মোদি গুজরাটে বালির দ্বীপগুলিকে কীভাবে উন্নত করা যায়, তা বোঝার জন্য প্রত্যন্ত ক্রিসমাস আইল্যান্ডেও গিয়েছিলেন। তাঁর মতে, মোদির কাছে বিদেশ সফর কেবল ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক বা পর্যটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
এ ধরনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতির নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর দীপাবলিতে সীমান্তে কর্মরত জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টিও তাঁর সৈনিকদের প্রতি সম্মানের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিয়াচেন থেকে কার্গিল, জয়সালমের থেকে নৌশেরা—বিভিন্ন কঠিন ও দুর্গম এলাকায় গিয়ে তিনি জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সফরগুলিকে সেনাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
—আইএএনএস



















